মূল কন্টেন্টে যান
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
সৌরজগৎ English

জীবনের বিজ্ঞান, মহাবিশ্বের মহাবিস্ময়, মহাকাশ অভিযানের কাহিনী, পদার্থের স্বরূপ, কালজয়ী বিজ্ঞানীদের গল্প – এসব নানা চমকপ্রদ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আমার লেখাগুলোকে নিয়ে তৈরি করেছি, ‘বিচিত্র বিজ্ঞান’ নামের এই ওয়েব সাইট।

প্রথম পাতা › বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি › হিন্টনের সতর্কবার্তা

হিন্টনের সতর্কবার্তা

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

⏱ ২ মিনিট পড়ার সময়

সর্বশেষ হালনাগাদ: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

👁 ৬ 💬 ০
শেয়ার ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ টেলিগ্রাম এক্স
English
হিন্টনের সতর্কবার্তা

জেফ্রি হিন্টনকে বলা হয় আধুনিক এআইয়ের ‘গডফাদার’। কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্ক ও ডিপ লার্নিংয়ের ভিত্তি তৈরিতে তাঁর অবদান অসামান্য। এই কাজের জন্য ২০২৪ সালে জন হপফিল্ডের সঙ্গে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারও পান তিনি। অথচ এখন সেই হিন্টনই এআই নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

• যেভাবে শুরু

হিন্টনের মূল আগ্রহ ছিল মানুষের মস্তিষ্ক কীভাবে শেখে, সেই ধারণা থেকে কম্পিউটারকে শেখানো।
আশির দশক থেকেই তিনি নিউরাল নেটওয়ার্ক নিয়ে কাজ করছিলেন। একসময় যখন এই প্রযুক্তি নিয়ে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ কমে গিয়েছিল, তখনও তিনি কাজ চালিয়ে যান।

শেষ পর্যন্ত তাঁর এবং অন্য গবেষকদের দীর্ঘদিনের কাজের ওপর দাঁড়িয়েই ডিপ লার্নিংয়ের বিপ্লব ঘটে। আজকের ছবি শনাক্তকরণ, ভাষা বোঝা থেকে শুরু করে আধুনিক জেনারেটিভ এআই সবখানেই এর প্রভাব।

• তারপর উদ্বেগ

২০২৩ সালে হিন্টন গুগল ছেড়ে দেন। এরপর এআইয়ের সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে আরও প্রকাশ্যে কথা বলতে শুরু করেন। তাঁর প্রশ্নটি খুব সহজ, কিন্তু উত্তরটি কঠিন।

এআই যদি একদিন মানুষের চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান হয়ে যায়, তখন আমরা কি তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারব?

হিন্টনের সাম্প্রতিক বক্তব্যে এই উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর মতে, মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান এআই আমাদের ধারণার চেয়েও দ্রুত আসতে পারে। ঠিক কখন আসবে, সেটা অবশ্য কেউ নিশ্চিতভাবে জানে না।

• সমস্যা কোথায়?

আমরা সাধারণত ভাবি, এআই তো মানুষই বানিয়েছে। দরকার হলে সুইচ বন্ধ করে দিলেই তো হলো।
কিন্তু ভবিষ্যতের অত্যন্ত উন্নত এআই যদি নিজেই পরিকল্পনা করতে পারে, নতুন কৌশল বের করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অনুসরণ করতে পারে, তখন ব্যাপারটি এত সহজ নাও হতে পারে।

বিশেষ করে তার লক্ষ্য যদি মানুষের লক্ষ্য থেকে সরে যায়। এ কারণেই হিন্টন মনে করেন, আরও শক্তিশালী এআই তৈরির পাশাপাশি নিরাপত্তা গবেষণা, স্বাধীন পরীক্ষা এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাও দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে।

• এআই বন্ধ নয়

হিন্টন এআই গবেষণা পুরোপুরি বন্ধ করার কথা বলছেন না। এআই চিকিৎসা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অসাধারণ সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, সেটিও তিনি স্বীকার করেন।
তাঁর উদ্বেগ অন্য জায়গায়।

আমরা যেন এমন একটি প্রযুক্তি তৈরির প্রতিযোগিতায় না নামি, যার ক্ষমতা বাড়ানোর উপায় আমরা জানি কিন্তু সেই ক্ষমতাকে সব পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায় এখনো জানি না।

• বিপরীত অবস্থান

বিষয়টির মধ্যে তাই এক অদ্ভুত বৈপরীত্য রয়েছে। জীবনের বড় অংশ হিন্টন কাটিয়েছেন মেশিনকে আরও বুদ্ধিমান করার চেষ্টা করে। এখন সেই বিজ্ঞানীই আমাদের সামনে প্রশ্ন রাখছেন, মানুষ যদি নিজের চেয়েও বুদ্ধিমান কিছু তৈরি করে, শুধু ‘স্রষ্টা’ হওয়ার কারণেই কি মানুষ তার নিয়ন্ত্রক হয়ে থাকতে পারবে?

আপনি কি ভাবছেন?

শেয়ার ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ টেলিগ্রাম এক্স

Tanvir Hossain

bichitrobiggan.com

তানভীর হোসেন ছাত্র জীবন থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখি করছেন। সহজ সরল বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করা তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে বিজ্ঞানে জন সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং তরুণ সমাজকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা তার লেখার মূল উদ্দেশ্য। তানভীর হোসেনের লেখা দুটো বিজ্ঞান বিষয়ক বই, "শতাব্দীর বিজ্ঞান" এবং "বিচিত্র বিজ্ঞান" পাঠক সমাদৃত হয়েছে।