এ বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল কার?
অক্টোবরের ৬ তারিখে ঘোষণা করা হবে ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার। কে বা কারা পাবেন, সেটা আগে থেকে জানার উপায় নেই। নোবেল পুরস্কারের মনোনয়নের তথ্যও ৫০ বছর গোপন রাখা হয়। তারপরও বিজ্ঞানজগতে কয়েকটি নাম ও গবেষণার ক্ষেত্র নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে।
সময়ের সবচেয়ে নিখুঁত ঘড়ি
জাপানের হিদেতোশি কাতোরি এবং যুক্তরাষ্ট্রের জুন ইয়ে তৈরি করেছেন অত্যন্ত নিখুঁত অপটিক্যাল অ্যাটমিক ক্লকের প্রযুক্তি।
এই ঘড়ি এতটাই সংবেদনশীল যে উচ্চতার সামান্য পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর মহাকর্ষের যে ক্ষুদ্র পার্থক্য ঘটে, সেটিও সময়ের পরিবর্তনের মাধ্যমে ধরা যায়। ভবিষ্যতে ভূতত্ত্ব থেকে মহাকাশ গবেষণা, অনেক ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার হতে পারে।
আলোকে অদ্ভুতভাবে নিয়ন্ত্রণ
আরেকটি সম্ভাব্য ক্ষেত্র হলো মেটামেটেরিয়াল। এগুলো বিশেষভাবে তৈরি কৃত্রিম এক কাঠামো, আলো ও তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যেটা সাধারণ পদার্থ দিয়ে সম্ভব নয়।
এই গবেষণার পথিকৃৎ জন পেন্ড্রি ও ডেভিড স্মিথ। তাঁদের কাজ থেকেই আলোকে কোনো বস্তুর চারপাশ দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো চমকপ্রদ ধারণার জন্ম হয়েছে।
মহাবিশ্বের জন্মের প্রথম মুহূর্ত
আরেকটি বড় নাম কসমিক ইনফ্লেশন বা মহাজাগতিক অতিদ্রুত প্রসারণ তত্ত্ব। এই ধারণা অনুযায়ী, বিগ ব্যাংয়ের পর একেবারে প্রথম মুহূর্তে মহাবিশ্ব অকল্পনীয় দ্রুতগতিতে প্রসারিত হয়েছিল।
এই তত্ত্বের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি জড়িত অ্যালান গুথ, আন্দ্রেই লিন্ডে এবং পল স্টাইনহার্ট। বহু বছর ধরেই তাঁদের নাম নোবেলের আলোচনায় রয়েছে।
কোয়ান্টাম কম্পিউটারের ভিত্তি
আজকের কোয়ান্টাম কম্পিউটার হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে কয়েক দশকের তাত্ত্বিক গবেষণা।
পিটার শোর, ডেভিড ডিভিনচেঞ্জো এবং ড্যানিয়েল লসের মতো বিজ্ঞানীরা এই ক্ষেত্রের ভিত্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মৌলিক কাজগুলোর কোনোটি এবার নোবেল কমিটির নজরে আসে কি না, সেটাও দেখার বিষয়।
গ্রাফিনে সামান্য মোচড়
আরেকটি চমৎকার ক্ষেত্র হলো টুইস্ট্রনিক্স। গ্রাফিনের দুটি অতি পাতলা স্তর একটির ওপর আরেকটি রেখে খুব সামান্য ঘুরিয়ে দিলে আশ্চর্য ঘটনা ঘটে। একটি বিশেষ কোণে এর বৈদ্যুতিক ও কোয়ান্টাম ধর্ম নাটকীয়ভাবে বদলে যায়।
এই গবেষণার সঙ্গে পাবলো জারিলো-হেরেরো, রাফি বিস্ট্রিটজার ও অ্যালান ম্যাকডোনাল্ডের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
তবে নোবেল পুরস্কার অনুমান করা বরাবরই কঠিন। অনেক যুগান্তকারী আবিষ্কারকে স্বীকৃতি দিতে নোবেল কমিটি কয়েক দশকও অপেক্ষা করেছে।
তাই পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার কার হাতে যাবে সেটা হলফ করে বলা সম্ভব নয়। অক্টোবরের ৬ তারিখে নোবেল কমিটির ঘোষণা এলেই জানা যাবে। আর এই অনিশ্চয়তাই নোবেল পুরস্কারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক।
