মূল কন্টেন্টে যান
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
সৌরজগৎ English

জীবনের বিজ্ঞান, মহাবিশ্বের মহাবিস্ময়, মহাকাশ অভিযানের কাহিনী, পদার্থের স্বরূপ, কালজয়ী বিজ্ঞানীদের গল্প – এসব নানা চমকপ্রদ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আমার লেখাগুলোকে নিয়ে তৈরি করেছি, ‘বিচিত্র বিজ্ঞান’ নামের এই ওয়েব সাইট।

প্রথম পাতা › মহাকাশ বিজ্ঞান › নতুন উচ্চতায় স্টারশিপ

নতুন উচ্চতায় স্টারশিপ

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

⏱ ২ মিনিট পড়ার সময়

সর্বশেষ হালনাগাদ: ১ অক্টোবর, ২০২৬

👁 ৮ 💬 ০
শেয়ার ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ টেলিগ্রাম এক্স
English
নতুন উচ্চতায় স্টারশিপ

বিশাল স্টারশিপ এবার শুধু পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন করেনি। প্রথমবার সত্যিকারের কাজ করেছে। ২৬টি নতুন প্রজন্মের স্টারলিংক স্যাটেলাইট নিয়ে কক্ষপথে পৌঁছে সেগুলো সফলভাবে মহাকাশে ছেড়ে দিয়েছে।

স্পেসএক্সের তৈরি স্টারশিপ হলো পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট সিস্টেম। এটি দুই অংশে তৈরি। নিচের বিশাল বুস্টারের নাম, সুপার হেভি, আর উপরের মহাকাশযানটির নাম, স্টারশিপ। দুটিকেই বারবার ব্যবহার করার উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে।

পুরো রকেট ব্যবস্থা প্রায় ১২৪ মিটার উঁচু। অর্থাৎ একটি ৪০ তলা ভবনের সমান উচ্চতা। স্টারশিপ ১০০ টনের বেশি মালামাল কক্ষপথে নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। আর সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হল, এটা সম্পূর্ণ পুনর্ব্যবহারযোগ্য।

এখানেই স্টারশিপের বিশেষত্ব

বর্তমান রকেটের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মহাকাশে বিপুল পরিমাণ মালামাল পাঠানো অত্যন্ত ব্যয়বহুল। স্পেসএক্সের লক্ষ্য, একই স্টারশিপ ও সুপার হেভি বুস্টার বারবার ব্যবহার করে উৎক্ষেপণের খরচ অনেক কমিয়ে আনা। সফল হলে বড় স্যাটেলাইট, মহাকাশ স্টেশন কিংবা চাঁদ ও মঙ্গলের জন্য বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম পাঠানোর ধরনই বদলে যেতে পারে। নাসাও ভবিষ্যৎ আর্টেমিস অভিযানে স্টারশিপের একটি বিশেষ সংস্করণকে চাঁদের ল্যান্ডার হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে।

২৮ সেপ্টেম্বরের উড্ডয়ন তাই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। উড্ডয়নের সময় স্টারশিপের ছয়টি র্যাপ্টর ইঞ্জিনের একটি নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে যায়। তারপরও মহাকাশযানটি নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরে আরেকটি ইঞ্জিন চালিয়ে কক্ষপথে প্রবেশ সম্পন্ন করা হয় এবং প্রায় ২৬৯ কিলোমিটার উচ্চতায় একে একে ২৬টি স্টারলিংক ভি৩ স্যাটেলাইট ছেড়ে দেওয়া হয়।

মূল পরিকল্পনা ছিল প্রায় ১০ ঘণ্টার মিশন। ইঞ্জিনের সমস্যার কারণে সেটি কমিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা করা হয়। প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে স্টারশিপকে কক্ষপথ থেকে নামিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে নিয়ন্ত্রিতভাবে ফিরিয়ে আনা হয়।

এর আগের স্টারশিপের নিম্ন কক্ষপথে উড্ডয়নগুলো ছিল মূলত প্রযুক্তি পরীক্ষা। এবারের পার্থক্য হলো, প্রথমবার এটি কক্ষপথে পৌঁছেছে এবং বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট কক্ষপথে স্থাপন করেছে। অর্থাৎ পরীক্ষামূলক রকেট থেকে কার্যকর মহাকাশ পরিবহন ব্যবস্থায় পরিণত হওয়ার পথে স্টারশিপ একটি বড় ধাপ পার হলো।

স্পেসএক্সের লক্ষ্য আরও অনেক দূরে, প্রথমে চাঁদ, তারপর মঙ্গল। সেই পথ এখনো দীর্ঘ। অনেক প্রযুক্তিগত পরীক্ষাও বাকি। তবে এবারের উড্ডয়ন একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে, স্টারশিপ এখন আর শুধু ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নয়। ধীরে ধীরে এটি বাস্তব মহাকাশ পরিবহন ব্যবস্থায় পরিণত হচ্ছে।

শেয়ার ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ টেলিগ্রাম এক্স

Tanvir Hossain

bichitrobiggan.com

তানভীর হোসেন ছাত্র জীবন থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখি করছেন। সহজ সরল বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করা তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে বিজ্ঞানে জন সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং তরুণ সমাজকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা তার লেখার মূল উদ্দেশ্য। তানভীর হোসেনের লেখা দুটো বিজ্ঞান বিষয়ক বই, "শতাব্দীর বিজ্ঞান" এবং "বিচিত্র বিজ্ঞান" পাঠক সমাদৃত হয়েছে।