মঙ্গলের চাঁদে জাপানের অভিযান: যাত্রা শুরু করল মহাকাশযান MMX
মঙ্গল গ্রহের মাটি নয়, এবার তার চাঁদের মাটি সংগ্রহ করতে মহাকাশে পাড়ি জমাল জাপানের একটি মহাকাশযান। আজ ২০ অক্টোবর ২০২৬ শুরু হলো বহুল প্রতীক্ষিত মঙ্গলের চাঁদে জাপানের অভিযান। জাপানের তানেগাশিমা মহাকাশকেন্দ্র থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে শক্তিশালী এইচ-৩ রকেট। এর সঙ্গে মহাকাশে পাঠানো হয়েছে মার্শিয়ান মুনস এক্সপ্লোরেশন (MMX) নামের একটি মহাকাশযান।
জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জাক্সা (JAXA) জানিয়েছে, উৎক্ষেপণের প্রায় ৭১ মিনিট পর মহাকাশযানটি সফলভাবে রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছেছে।
লক্ষ্য মঙ্গলের চাঁদ
মঙ্গল গ্রহের দুটি ছোট চাঁদ রয়েছে—ফোবোস ও ডেইমোস। এদের আকৃতি অনেকটা এবড়োখেবড়ো আলুর মতো। পৃথিবীর চাঁদের মতো গোলাকার নয়।
বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত নন, এই দুটি চাঁদের জন্ম কীভাবে হয়েছে। এরা কি একসময় গ্রহাণু ছিল, পরে মঙ্গলের মহাকর্ষে আটকা পড়েছে? নাকি প্রাচীনকালে মঙ্গলের সঙ্গে কোনো বিশাল মহাজাগতিক বস্তুর সংঘর্ষে এদের সৃষ্টি হয়েছে? এই রহস্যের উত্তর খুঁজতেই জাপানের নতুন অভিযান।
কী করবে মহাকাশযানটি?
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের আগস্টে মহাকাশযানটি মঙ্গলের কাছে পৌঁছাবে। এরপর ফোবোসকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করবে। এর পৃষ্ঠের গঠন, খনিজ উপাদান ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করবে।
এই অভিযানে রয়েছে ফ্রান্স ও জার্মানির তৈরি একটি ছোট্ট রোভার, যার নাম আইডেফিক্স (Idefix)। এটি ফোবোসের মাটিতে নেমে ঘুরে বেড়াবে এবং বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করবে।
আরও চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, মূল মহাকাশযানটিও ফোবোসের পৃষ্ঠে অবতরণ করবে। সেখান থেকে অন্তত ১০ গ্রাম মাটি ও পাথরের নমুনা সংগ্রহ করবে।
পরিমাণে সামান্য মনে হলেও বিজ্ঞানীদের কাছে এই নমুনার মূল্য অপরিসীম। কারণ, এর রাসায়নিক ও খনিজ গঠন বিশ্লেষণ করে মঙ্গলের চাঁদের উৎপত্তি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
নমুনা ফিরবে অস্ট্রেলিয়াতে
সবকিছু পরিকল্পনামতো চললে ২০৩০ সালে মহাকাশযানটি মঙ্গল ছেড়ে পৃথিবীর উদ্দেশে রওনা হবে। তারপর ২০৩১ সালে নমুনাভর্তি একটি বিশেষ ক্যাপসুল পৃথিবীতে ফিরে আসবে।
মজার ব্যাপার হলো, ক্যাপসুলটি অবতরণ করার কথা অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের উমেরা এলাকায়। অর্থাৎ জাপানের এই ঐতিহাসিক মহাকাশ অভিযানের শেষ অধ্যায়টি ঘটবে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে!
MMX অভিযান সফল হলে এই প্রথম মঙ্গলের কোনো চাঁদ থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পৃথিবীর গবেষণাগারে পৌঁছাবে। সেই সামান্য কয়েক গ্রাম মাটির মধ্যেই হয়তো লুকিয়ে আছে সৌরজগতের সাড়ে চারশ কোটি বছরের পুরোনো ইতিহাসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।
