মূল কন্টেন্টে যান
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জীবনের বিজ্ঞান, মহাবিশ্বের মহাবিস্ময়, মহাকাশ অভিযানের কাহিনী, পদার্থের স্বরূপ, কালজয়ী বিজ্ঞানীদের গল্প – এসব নানা চমকপ্রদ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আমার লেখাগুলোকে নিয়ে তৈরি করেছি, ‘বিচিত্র বিজ্ঞান’ নামের এই ওয়েব সাইট।

প্রথম পাতাজীবনের বিজ্ঞানকোষের জগত

কোষের জগত

২৩ মে, ২০২৬

⏱ ২ মিনিট পড়ার সময়

👁 ৬২ 💬 ০
কোষের জগত
এটি কোনো চিত্রকর্ম নয়। কোনো সাইন্স ফিকশন সিনেমার দৃশ্যও নয়। এটি একটি মানব কোষের ভেতরের বাস্তব ছবি। এমন এক জগতের দৃশ্য, যেটা আমাদের চোখে কখনো ধরা পড়ে না।
ছবিটি তৈরি করা হয়েছে বহু দশকের বৈজ্ঞানিক গবেষণার তথ্য থেকে। বিজ্ঞানীরা এক্স-রে ক্রিস্টালোগ্রাফি, নিউক্লিয়ার ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স এবং ক্রায়ো-ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপির মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে মানব কোষের ভেতরের গঠনকে একত্র করেছেন। তারপর তৈরি করেছেন এই অবিশ্বাস্য দৃশ্য।
আমরা সাধারণত কোষকে বায়োলজি বইয়ে দেখা ছবির মতো করে কল্পনা করি। কিন্তু বাস্তবে একটি কোষের ভেতর চলছে এক ব্যস্ত মহানগরীর মত কর্মযজ্ঞ। সেখানে প্রতিটি মুহূর্তে কাজ করে চলেছে কোটি কোটি প্রোটিন অণু, রাইবোজোম, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং অসংখ্য অঙ্গাণু। কেউ সংকেত পাঠাচ্ছে, কেউ শক্তি তৈরি করছে, কেউ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে, কেউ ক্ষত সারাচ্ছে, আবার কেউ নতুন প্রোটিন বানাচ্ছে।
এই ছবির বাম দিকে বেগুনি রঙের বড় অংশটি হলো কোষের নিউক্লিয়াস। সেখানে সংরক্ষিত রয়েছে ডিএনএ অণু, আমাদের শরীর গঠনের নকশা। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, একটি মানব কোষের ভেতরে পেঁচিয়ে থাকা ডিএনএ যদি সম্পূর্ণ খুলে সোজা করা যায়, তবে তার দৈর্ঘ্য প্রায় দুই মিটার পর্যন্ত হতে পারে। অথচ এই বিশাল অণুটি গুটিয়ে থাকে মাত্র কয়েক মাইক্রোমিটার আকারের একটি নিউক্লিয়াসের ভেতরে।
আরো বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, একটি মাত্র মানব কোষে প্রায় চার কোটি বিশ লাখ প্রোটিন অণু থাকে। আর আমাদের শরীরে আছে এরকম প্রায় ৩৭ ট্রিলিয়ন কোষ। অর্থাৎ এই মুহূর্তে আমাদের শরীরের ভেতরে চলছে এক অকল্পনীয় মলিকিউলার কর্মযজ্ঞ। নিঃশব্দে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে। আমাদের কোনোরকম সচেতন নির্দেশ ছাড়াই।
আমরা প্রায়ই মহাজাগতিক বিশালতা দেখে বিস্মিত হই। অথচ আমাদের নিজেদের শরীরের ভেতরেই লুকিয়ে রয়েছে এক আশ্চর্য জটিল জগত – ভীষণ ব্যস্ত ও বিস্ময়কর।

Tanvir Hossain

bichitrobiggan.com

তানভীর হোসেন ছাত্র জীবন থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখি করছেন। সহজ সরল বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করা তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে বিজ্ঞানে জন সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং তরুণ সমাজকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা তার লেখার মূল উদ্দেশ্য। তানভীর হোসেনের লেখা দুটো বিজ্ঞান বিষয়ক বই, "শতাব্দীর বিজ্ঞান" এবং "বিচিত্র বিজ্ঞান" পাঠক সমাদৃত হয়েছে।