জেগে উঠেছে ক্রাকাতোয়ার সন্তান
ক্রাকাতোয়ার ভয়ংকর ইতিহাস ও আনাক ক্রাকাতোয়ার জাগরণ
১৪৩ বছর আগে এমন এক আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ ঘটেছিল, যার গর্জন শোনা গিয়েছিল হাজার হাজার কিলোমিটার দূর থেকে। বিস্ফোরণ ও সুনামিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৩৬ হাজারের বেশি মানুষ। আগ্নেয় ধূলিকণা ছড়িয়ে পড়ে বদলে দিয়েছিল দূর-দূরান্তের আকাশ ও সূর্যাস্তের রং।
সেই ভয়ঙ্কর আগ্নেয়গিরির নাম, ক্রাকাতোয়া। এবার আবার অস্থির হয়ে উঠেছে তারই সন্তান, আনাক ক্রাকাতোয়া।
ইন্দোনেশিয়ায় নতুন করে অগ্ন্যুৎপাত ও প্রভাব
ইন্দোনেশিয়ার জাভা ও সুমাত্রার মাঝখানে সুন্দা প্রণালিতে দাঁড়িয়ে থাকা এই আগ্নেয়গিরিতে নতুন করে অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া একটি পর্ব টানা প্রায় ২৫ ঘণ্টা চলে। রাতের অন্ধকারে আকাশে ছিটকে ওঠে লাল-গরম লাভা, ছাই আর উত্তপ্ত শিলাখণ্ড। আগ্নেয়গিরির ছাই বায়ুমন্ডলের ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় পৌঁছে যায়। এর ফলে ইন্দোনেশিয়ার বহু অঞ্চলে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
আনাক ক্রাকাতোয়ার জন্মরহস্য ও সুনামির আশঙ্কা
আনাক ক্রাকাতোয়ার জন্মও বিস্ময়কর। ১৮৮৩ সালের মহাবিস্ফোরণে মূল ক্রাকাতোয়ার বিরাট অংশ ধসে সমুদ্রে তলিয়ে যায়। কিন্তু সমুদ্রের নিচে আগ্নেয় কর্মকাণ্ড চলতে থাকে। কয়েক দশক পর সেই জায়গায়ই সমুদ্রের বুক চিরে জন্ম নেয় নতুন এক আগ্নেয় দ্বীপ, আনাক ক্রাকাতোয়া, ইন্দোনেশিয়ান ভাষায় যার অর্থ ‘ক্রাকাতোয়ার সন্তান’।
এই সন্তানও বিপজ্জনক। ২০১৮ সালে এর একটি অংশ ধসে সমুদ্রে পড়ে সুনামি সৃষ্টি করেছিল; প্রাণ হারিয়েছিলেন শত শত মানুষ। তাহলে এবারও কি সুনামি হতে পারে? এখন পর্যন্ত তেমন কোনো লক্ষণ নেই। তবে আগ্নেয়গিরিটি এখনো অস্থির থাকায় বিজ্ঞানীরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
‘রিং অব ফায়ার’ এবং পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক হৃদস্পন্দন
ইন্দোনেশিয়ায় এত আগ্নেয়গিরি থাকার কারণ হলো দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান। এই এলাকাকে বলা হয় ‘রিং অব ফায়ার’। এখানে টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ ও সাবডাকশন পৃথিবীর গভীরে ম্যাগমা তৈরির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। এর ফলে এই এলাকায় প্রচুর সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে। আমাদের কাছে আনাক ক্রাকাতোয়ার অগ্ন্যুৎপাত এক ভয়ংকর ঘটনা। কিন্তু এটি পৃথিবীর সাড়ে চারশ কোটি বছরের পুরোনো ভূতাত্ত্বিক হৃদস্পন্দন। পৃথিবী আমাদের মাঝে মাঝে মনে করিয়ে দেয়, ভেতরে ভেতরে সে কিন্তু এখনো অশান্ত।
