মূল কন্টেন্টে যান
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জীবনের বিজ্ঞান, মহাবিশ্বের মহাবিস্ময়, মহাকাশ অভিযানের কাহিনী, পদার্থের স্বরূপ, কালজয়ী বিজ্ঞানীদের গল্প – এসব নানা চমকপ্রদ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আমার লেখাগুলোকে নিয়ে তৈরি করেছি, ‘বিচিত্র বিজ্ঞান’ নামের এই ওয়েব সাইট।

প্রথম পাতাবিজ্ঞানীদের কথারজার পেনরোজ: মহাবিশ্বের রহস্যসন্ধানী

রজার পেনরোজ: মহাবিশ্বের রহস্যসন্ধানী

৮ আগস্ট, ২০২৬

⏱ ২ মিনিট পড়ার সময়

👁 ৫২ 💬 ০
রজার পেনরোজ: মহাবিশ্বের রহস্যসন্ধানী

আজ ৮ আগস্ট। ১৯৩১ সালের এই দিনে ইংল্যান্ডের কোলচেস্টারে জন্ম নিয়েছিলেন আধুনিক যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গণিতবিদ ও তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী স্যার রজার পেনরোজ।

ব্ল্যাক হোল, মহাবিশ্বের জন্ম, স্থান-কালের প্রকৃতি, এমনকি মানুষের চেতনা, অর্থাৎ ‌বিজ্ঞানের এমন কোনো গভীর রহস্য নেই, যেটা নিয়ে তিনি ভাবেননি। আইনস্টাইন ও স্টিফেন হকিংয়ের পর মহাবিশ্বের গভীরতম প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে যাঁরা সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন, রজার পেনরোজ তাঁদের মধ্যে অন্যতম।

ব্ল্যাক হোলের গল্প

একসময় অনেক বিজ্ঞানীই মনে করতেন, ব্ল্যাক হোল কেবল সমীকরণের খেলা। বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব নাও থাকতে পারে।
১৯৬৫ সালে পেনরোজ সেই ধারণা বদলে দেন। তিনি দেখান, আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব সঠিক হলে ব্ল্যাক হোলের সৃষ্টি অনিবার্য। অর্থাৎ ব্ল্যাক হোল কোনো গাণিতিক কল্পনা নয়, বরং মহাবিশ্বের একটি নিরেট বাস্তবতা।

পরবর্তীতে স্টিফেন হকিংয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণায় তিনি দেখিয়েছেন, শুধু ব্ল্যাক হোলই নয়, মহাবিশ্বেরও একটি নির্দিষ্ট ‌সূচনা রয়েছে।

দুই টাইলের বিস্ময়

১৯৭৪ সালে পেনরোজ এমন এক ধরনের জ্যামিতিক নকশা আবিষ্কার করেন, যেটা মাত্র দুটি আকৃতি ব্যবহার করে অসীম পর্যন্ত বিস্তৃত করা যায়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, পুরো নকশাটির কোথাও একই বিন্যাস বারবার ফিরে আসে না। পরে এই ধারণা থেকেই কোয়াসিক্রিস্টাল নামে এক নতুন ধরনের পদার্থ আবিষ্কৃত হয়।

মানুষের চেতনার উৎস

পেনরোজের আরেকটি বিখ্যাত ধারণা হলো, মানুষের চেতনা হয়তো কেবল স্নায়বিক সংকেতের ফল নয়। এর পেছনে কোয়ান্টাম বলবিদ্যারও কোনো ভূমিকা থাকতে পারে।

অনেক বিজ্ঞানী তাঁর এই ধারণার বিরোধিতা করেছেন। আবার অনেকে মনে করেন, এখানেই হয়তো লুকিয়ে আছে মানুষের মস্তিষ্কের অজানা রহস্য।

মহাবিশ্বেরও কি মৃত্যু আছে?

পেনরোজ মনে করেন, একটি মহাবিশ্বের সমাপ্তিই আরেকটি মহাবিশ্বের জন্মের সূচনা করতে পারে। তাঁর এই ধারণার নাম কনফরমাল সাইক্লিক কসমোলজি।
অর্থাৎ মহাবিশ্বের ইতিহাস হয়তো একটি বিগ ব্যাং দিয়ে শুরু হয়ে শেষ হয়ে যায় না। সৃষ্টি ও ধ্বংসের এই চক্র হয়তো অনন্তকাল ধরে চলতে থাকে।

নোবেল পুরস্কার

২০২০ সালে ব্ল্যাক হোল নিয়ে গবেষণার জন্য রজার পেনরোজ পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

আজ তাঁর ৯৫তম জন্মদিনে এই অসাধারণ বিজ্ঞানীর প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা।

Tanvir Hossain

bichitrobiggan.com

তানভীর হোসেন ছাত্র জীবন থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখি করছেন। সহজ সরল বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করা তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে বিজ্ঞানে জন সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং তরুণ সমাজকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা তার লেখার মূল উদ্দেশ্য। তানভীর হোসেনের লেখা দুটো বিজ্ঞান বিষয়ক বই, "শতাব্দীর বিজ্ঞান" এবং "বিচিত্র বিজ্ঞান" পাঠক সমাদৃত হয়েছে।