পৃথিবীর উপর-নিচ
মানচিত্র ও গ্লোবে অস্ট্রেলিয়াকে পৃথিবীর নিচের দিকে দেখানো হয়, কারণ দেশটি দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত।
কিন্তু মহাশূন্যে ভাসমান পৃথিবীর উপরে বা নিচে বলে কোনো নির্দিষ্ট, সর্বজনীন দিক নেই। উত্তর মেরুকে উপরে আর দক্ষিণ মেরুকে নিচে দেখানো মানুষের তৈরি একটি প্রচলিত রীতি। পৃথিবীর গ্লোব উল্টো করে বানালেও বিজ্ঞানের কোনো নিয়ম ভাঙবে না।
গ্যালাক্সিতে পৃথিবীর অবস্থান
আমাদের মিল্কিওয়ে একটি সর্পিল গ্যালাক্সি। এর একটি তুলনামূলক ছোট সর্পিল বাহু, ওরায়ন বাহুতে রয়েছে আমাদের সৌরজগৎ। গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে আমাদের দূরত্ব প্রায় ২৬ হাজার আলোকবর্ষ।
মিল্কিওয়ের কেন্দ্রে রয়েছে তারায় ঘন একটি স্ফীত অঞ্চল। একে বলা হয়, গ্যালাকটিক বাল্জ। এই অঞ্চলটি সর্পিল বাহুগুলোর চেয়ে অনেক পুরু। তবে গ্যালাক্সির কেন্দ্র বাহুগুলোর উপরে নয়; এটি গ্যালাক্সির মূল সমতলের মধ্যেই অবস্থিত।
এখন মজার বিষয় হলো, আমরা যদি মিল্কিওয়ের কেন্দ্রের দিককে ‘উপর’ বলে ধরে নিই, তাহলে অস্ট্রেলিয়াকে পৃথিবীর উপরের দিকেও বলা যায়!
অস্ট্রেলিয়ার আকাশ
মিল্কিওয়ের কেন্দ্র আকাশের এমন একটি অংশে রয়েছে, যেটা অস্ট্রেলিয়ার অনেক এলাকা থেকে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে প্রায় মাথার উপরে দেখা যায়।
যেমন, ক্যানবেরা থেকে গ্যালাক্সির কেন্দ্র সর্বোচ্চ প্রায় ৮৪ ডিগ্রি উচ্চতায় ওঠে। অর্থাৎ এটি মাথার ঠিক ওপরের অবস্থান থেকে মাত্র ৬ ডিগ্রি দূরে থাকে।
তবে পৃথিবী নিজ অক্ষে ঘুরছে। তাই অস্ট্রেলিয়া সব সময় গ্যালাক্সির কেন্দ্রের দিকে মুখ করে থাকে না। সময়ের সাথে এই অবস্থান বদলে যায়।
কোথায় উপর, কোথায় নিচ?
তাই অস্ট্রেলিয়া পৃথিবীর নিচের দিকে, এমন ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কোন দিককে আমরা ‘উপর’ বলছি, আর কোন দিককে ‘নিচ’ বলছি, এটা সম্পূর্ণ মানুষের তৈরি একটি প্রচলিত ধারণা।
তাহলে প্রশ্ন হলো, অস্ট্রেলিয়া যদি পৃথিবীর নিচে না হয়, পৃথিবীর নিচে আসলে কোন দেশ?
এর বৈজ্ঞানিক উত্তর হলো, কোনোটিই নয়!
মহাবিশ্বে উপর-নিচ বলে কিছু নেই। সবকিছু নির্ভর করে আমরা “উপর” হিসেবে কোন্ দিকটা বেছে নিচ্ছি এবং কোন্ দৃষ্টিকোণ থেকে সেটা দেখছি তার ওপর।
