মূল কন্টেন্টে যান
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জীবনের বিজ্ঞান, মহাবিশ্বের মহাবিস্ময়, মহাকাশ অভিযানের কাহিনী, পদার্থের স্বরূপ, কালজয়ী বিজ্ঞানীদের গল্প – এসব নানা চমকপ্রদ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আমার লেখাগুলোকে নিয়ে তৈরি করেছি, ‘বিচিত্র বিজ্ঞান’ নামের এই ওয়েব সাইট।

প্রথম পাতামহাকাশ বিজ্ঞানভিনগ্রহে প্রাণের ইঙ্গিত: জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের…

ভিনগ্রহে প্রাণের ইঙ্গিত: জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের নতুন আবিষ্কার

১৩ মার্চ, ২০২৬

⏱ ২ মিনিট পড়ার সময়

👁 ৭৪ 💬 ০
ভিনগ্রহে প্রাণের ইঙ্গিত: জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের নতুন আবিষ্কার

মহাবিশ্বে প্রাণের সন্ধানে নতুন দিগন্ত

মহাবিশ্বে আমরা কি একা? এই প্রশ্নই মানুষের জিজ্ঞাসার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল হাজার বছর ধরে। আর সেই উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমরা আজ পৌঁছেছি এক নতুন দিগন্তে। নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST) অতি সম্প্রতি দূরবর্তী একটি গ্রহের বায়ুমণ্ডলে রহস্যজনক কিছু রাসায়নিক চিহ্ন খুঁজে পেয়েছে, যা পৃথিবীতে কেবলমাত্র জৈবিক পদ্ধতিতেই তৈরি হয়। ঘটনাটি একদিকে যেমন বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে অভাবনীয়, তেমনি মানব ইতিহাসে এটি হতে পারে এক যুগান্তকারী মোড়।

রহস্যময় গ্রহ K2-18b এবং গোল্ডিলক্স জোন

এই রহস্যময় গ্রহের নাম K2-18b। পৃথিবী থেকে প্রায় ১২৪ আলোকবর্ষ দূরে সিংহ রাশিতে অবস্থিত এই গ্রহটি একধরনের “হাইসিয়ান প্ল্যানেট”। অর্থাৎ এটা এমন এক গ্রহ যা একদিকে গভীর তরল পানির সমুদ্র দিয়ে আবৃত, অন্যদিকে এর রয়েছে হাইড্রোজেন-সমৃদ্ধ ঘন বায়ুমণ্ডল। এর আকার পৃথিবীর চেয়ে প্রায় আড়াই গুণ বড়, তবে তা সত্ত্বেও এটি এমন এক নির্দিষ্ট কক্ষপথে অবস্থান করছে, যাকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় বলা হয় ‘গোল্ডিলক্স জোন’। অর্থাৎ সেখানে তাপমাত্রা এমন অবস্থায় রয়েছে, যেটা তরল পানি এবং সম্ভবত প্রাণের বিকাশের জন্য উপযোগী হতে পারে।

বায়ুমণ্ডলে জৈব গ্যাসের উপস্থিতি

জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের ইনফ্রারেড সেন্সর ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা K2-18b-এর বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে সেখানে ডাইমিথাইল সালফাইড (DMS) এবং ডাইমিথাইল ডিসালফাইড (DMDS) নামক দুটি জৈব গ্যাসের উপস্থিতির সম্ভাব্য ইঙ্গিত পেয়েছেন। এই দু’টি গ্যাস পৃথিবীতে শুধুমাত্র জৈবিক পদ্ধতিতে, বিশেষ করে সামুদ্রিক শৈবাল বা ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের মাধ্যমে উৎপন্ন হয়। আর ঠিক এখানেই রয়েছে এই আবিষ্কারের তাৎপর্য।

বিজ্ঞানীদের সতর্কতা ও বায়ো-সিগনেচারের গুরুত্ব

তবে বিজ্ঞানীরা এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে রাজি নন। কারণ DMS বা DMDS-এর মতো গ্যাস তাত্ত্বিকভাবে অজৈব প্রক্রিয়াতেও তৈরি হতে পারে। কিন্তু পৃথিবীর বাস্তবতা বলছে, এই গ্যাসগুলো প্রকৃতপক্ষে জীবনের স্পষ্ট চিহ্ন বহন করে। তাই এই আবিষ্কার নিঃসন্দেহে এক যুগান্তকারী সম্ভাবনার ইঙ্গিত। এমনকি, এটা হতে পারে প্রথমবারের মতো পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্ব সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মত কোন “বায়ো-সিগনেচার”।

গবেষণা প্রবন্ধ ও বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতি

এই সমগ্র বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে একটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে আজ ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল, যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত পিয়ার-রিভিউড বিজ্ঞান সাময়িকী The Astrophysical Journal Letters-এ। প্রবন্ধটির শিরোনাম “New Constraints on DMS and DMDS in the Atmosphere of K2-18b from JWST MIRI,”

মহাবিশ্বে জীবনের অস্তিত্ব নিয়ে নতুন ভাবনা

এই আবিষ্কারটি আমাদের একটি বড় সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। মহাবিশ্বে জীবনের উন্মেষ হয়তো খুব বিরল কোন ঘটনা নয়।

Tanvir Hossain

bichitrobiggan.com

তানভীর হোসেন ছাত্র জীবন থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখি করছেন। সহজ সরল বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করা তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে বিজ্ঞানে জন সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং তরুণ সমাজকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা তার লেখার মূল উদ্দেশ্য। তানভীর হোসেনের লেখা দুটো বিজ্ঞান বিষয়ক বই, "শতাব্দীর বিজ্ঞান" এবং "বিচিত্র বিজ্ঞান" পাঠক সমাদৃত হয়েছে।