মূল কন্টেন্টে যান
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
সৌরজগৎ English

জীবনের বিজ্ঞান, মহাবিশ্বের মহাবিস্ময়, মহাকাশ অভিযানের কাহিনী, পদার্থের স্বরূপ, কালজয়ী বিজ্ঞানীদের গল্প – এসব নানা চমকপ্রদ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আমার লেখাগুলোকে নিয়ে তৈরি করেছি, ‘বিচিত্র বিজ্ঞান’ নামের এই ওয়েব সাইট।

প্রথম পাতা › বিবিধ বিজ্ঞান › ভবিষ্যতের পৃথিবী: প্রযুক্তি ও মানুষের অকল্পনীয়…

ভবিষ্যতের পৃথিবী: প্রযুক্তি ও মানুষের অকল্পনীয় রূপান্তর

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

⏱ ৩ মিনিট পড়ার সময়

সর্বশেষ হালনাগাদ: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

👁 ৩২৯ 💬 ০
শেয়ার ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ টেলিগ্রাম এক্স
ভবিষ্যতের পৃথিবী: প্রযুক্তি ও মানুষের অকল্পনীয় রূপান্তর

কল্পনা ও বাস্তবতার মেলবন্ধন

কেমন হবে আগামী দিনের পৃথিবী, কেমন হবে ভবিষ্যতের মানুষ? মাঝে মাঝেই আমরা সেটা কল্পনা করার চেষ্টা করি। কিন্তু এটা শুধু নিছক কল্পনাই নয়। প্রকৃতপক্ষে আমাদের কল্পনার চেয়েও অনেক বেশী এগিয়ে যাবে আগামী দিনের মানুষ। আগামীর পৃথিবী আমাদের কল্পনার পরিধি ছাড়িয়ে এগিয়ে যাবে অনেক অনেক দূরে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার বিবর্তন

অতীতের দিকে তাকালে মানুষের ভবিষ্যত কেমন হতে পারে তা সমন্ধে একটি ধারণা করা যায়। এখন থেকে মাত্র একশো বছর আগেও মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনকার মতো উন্নত ছিলোনা। দূর দেশে যাওয়া আসা ছিলো এক দুরূহ ব্যাপার। দিনের পর দিন জাহাজে ভাসতে হতো সাগরে। অথচ এখন জেট প্লেনে এক দেশ থেকে অন্যদেশে যাওয়া কোনো ব্যাপারই না। সিডনিতে সকালে নাস্তা করে দিব্যি রাতের খাবার ঢাকায় বসে খাওয়া যায়। ভবিষ্যতে এই যাত্রাটি আরো দ্রুত হবে সেটা বলাই বাহুল্য।

নিকট অতীতেও বিদেশে ফোনে কথা বলা ছিল ভাগ্যের ব্যাপার। লাইন পাওয়া যেত না। আর লাইন পেলেও কথা কেটে কেটে যেত। আর এখন ইন্টারনেটের কল্যাণে মুঠোফোনে মুহূর্তের মধ্যেই পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে বন্ধুর সাথে কথা বলা যায়। কথার সাথে সাথে তার ছবিও দেখা যায় ফোনে। আমাদের ছেলেবেলায় এটা ছিল এক অকল্পনীয় ব্যাপার। তথ্য প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য উন্নতির ফলে এখন খুব সহজেই মানুষের কাছে সারা দুনিয়ার খবর পৌঁছে যায় নিমিষের মধ্যে। এটাও একদিন ছিল আমাদের কল্পনার বাইরে।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে নিকট অতীতেও যা ছিল অকল্পনীয় এখন সেটাই বাস্তব। অতএব এখন যেটা অকল্পনীয় মনে হচ্ছে সেটাই অদূর ভবিষ্যতে বাস্তবে পরিণত হবে। তখন ভবিষ্যতের পৃথিবী-তে সেটাকেই স্বাভাবিক বলে মনে হবে।

জৈব প্রযুক্তি ও ন্যানো সায়েন্স

এখন ধরা যাক জৈব প্রযুক্তির কথা। এক্ষেত্রে খুব দ্রুত গতিতে অভূতপূর্ব উন্নতি হচ্ছে প্রতি বছর। জৈব প্রযুক্তি ব্যবহার করে আগামী দশকের মধ্যে ক্যান্সার এবং এইডসের মতো মরণ ব্যাধিকে মানুষ আয়ত্তের মধ্যে নিয়ে আসবে বলে আশা করা যায়। জিন এডিটিং করে নতুন নতুন ফসলের জাত উদ্ভাবন করা অনেক সহজ হয়ে যাবে। আরেকটি সবুজ বিপ্লবের সূচনা হওয়াটা এখন শুধু সময়ের ব্যাপার।

জৈব প্রযুক্তির পাশাপাশি ন্যানো প্রযুক্তিও সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানব দেহের অভ্যন্তরে ন্যানো রোবট পাঠিয়ে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ ধ্বংস করা এখন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর মতো শোনালেও আগামী দুই দশকের মধ্যে সেটাই ঘটতে পারে।

এআই, চালকবিহীন গাড়ি ও মহাকাশ

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়েও প্রচুর কাজ হচ্ছে। চালকবিহীন গাড়ি এখন আর কল্পনার বিষয় নয়। পৃথিবীর অনেক শহরেই এখন পরীক্ষামুলকভাবে চালকবিহীন গাড়ি দেখা যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে আগামী এক দশকের মধ্যেই চালকবিহীন গাড়ি সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে। পেট্রোল চালিত গাড়ি হয়ে যাবে অতীত ইতিহাস। গাড়ি চলবে সৌর বিদ্যুতে।

সৌরজগতের বিভিন্ন গ্রহে পৌঁছে যাবে মনুষ্যবাহী নভোযান। ধীরে ধীরে পৃথিবীর বাইরেও গড়ে তোলা হবে মানব বসতি। সৌরজগতের বাইরেও চলবে মানুষের অভিযান। আজ এটাকে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী মনে হলেও ভবিষ্যতে এটাই হবে বাস্তব। সম্ভবত আগামী শতাব্দীর মধ্যেই এটা সম্ভব হবে।

মৃত্যুঞ্জয়ী মানুষ ও আগামীর স্বপ্ন

চিকিৎসা বিজ্ঞানে অভূতপূর্ব উন্নতির ফলে মানুষের জীবনকাল বৃদ্ধি পাবে বহুগুন। এর পাশাপাশি ডিএনএ (DNA) মেরামতের সহজ পদ্ধতি আবিষ্কার করে চির যৌবন অটুট রাখাটাও বিচিত্র কিছুনা। সম্ভবত এই শতাব্দী শেষ হবার আগেই এই অসাধ্য কাজটা সম্পন্ন করবে মানুষ।

আজ যে শিশুটির জন্ম হয়েছে সে হয়তো সুস্থ দেহে বেঁচে থাকবে কয়েকশ বছর। এটা এখন কল্পনা মনে হতে পারে। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে কল্পনাকেই বাস্তবে পরিণত করে বিজ্ঞান। যুগে যুগে সেটাই হয়ে এসেছে।

(এই পুরো লেখাটাই ভয়েস কমান্ড দিয়ে লিখলাম। ভবিষ্যতের প্রযুক্তির কিছুটা মনে হয় আমাদের হাতের মুঠোয় এখনি চলে এসেছে)

শেয়ার ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ টেলিগ্রাম এক্স

Tanvir Hossain

bichitrobiggan.com

তানভীর হোসেন ছাত্র জীবন থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখি করছেন। সহজ সরল বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করা তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে বিজ্ঞানে জন সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং তরুণ সমাজকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা তার লেখার মূল উদ্দেশ্য। তানভীর হোসেনের লেখা দুটো বিজ্ঞান বিষয়ক বই, "শতাব্দীর বিজ্ঞান" এবং "বিচিত্র বিজ্ঞান" পাঠক সমাদৃত হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *