মূল কন্টেন্টে যান
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জীবনের বিজ্ঞান, মহাবিশ্বের মহাবিস্ময়, মহাকাশ অভিযানের কাহিনী, পদার্থের স্বরূপ, কালজয়ী বিজ্ঞানীদের গল্প – এসব নানা চমকপ্রদ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আমার লেখাগুলোকে নিয়ে তৈরি করেছি, ‘বিচিত্র বিজ্ঞান’ নামের এই ওয়েব সাইট।

প্রথম পাতামহাকাশ বিজ্ঞানভয়েজার ২: সৌরজগত ছাড়িয়ে অজানার উদ্দেশ্যে…

ভয়েজার ২: সৌরজগত ছাড়িয়ে অজানার উদ্দেশ্যে নাসার মহাকাশযান

১২ মার্চ, ২০২৬

⏱ ২ মিনিট পড়ার সময়

👁 ৮৯ 💬 ০
ভয়েজার ২: সৌরজগত ছাড়িয়ে অজানার উদ্দেশ্যে নাসার মহাকাশযান

ভয়েজার ২-এর যাত্রা ও প্রাথমিক মিশন

১৯৭৭ সালের অগাস্ট মাসের ২০ তারিখে, পৃথিবী থেকে যাত্রা শুরু করেছিলো নাসার মহাকাশযান “ভয়েজার ২”। এর প্রধান মিশন ছিল সৌরজগতের বাইরের দিকের গ্যাসীয় গ্রহগুলোকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করা। একে একে বৃহস্পতি, শণি, ইউরেনাস এবং নেপচুন গ্রহের কাছাকাছি পৌঁছে সেই সব গ্রহের ছবিসহ বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত পাঠিয়েছিল “ভয়েজার ২”। এই গ্রহগুলোর বেশকিছু নতুন উপগ্রহ আবিষ্কার করেছিলো এই মহাকাশ যানটি। এটি ছিল নাসার একটি অত্যন্ত সফল মিশন। আশির দশকে “ভয়েজার ২” এর খবর পত্রিকার শিরোনাম হতো। মনে আছে, তখন খুব আগ্রহ নিয়ে সে সব খবর পড়তাম। এসব অবশ্য বহু বছর আগের কথা।

আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাশূন্যে বর্তমান অবস্থান

আশ্চর্যের বিষয় হলো, ৪৪ বছর পরেও “ভয়েজার ২” এখনো নীরবে কাজ করে যাচ্ছে। সৌরজগতের সীমানা ছাড়িয়ে “ভয়েজার ২” এখন পৌঁছে গেছে আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাশূন্যে। পৃথিবীতে থেকে প্রায় ১৮.৫ বিলিয়ন কিলোমিটার দূরে এখন এর অবস্থান। গতি প্রতি সেকেন্ডে ১৫.৪ কিলোমিটার, ঘণ্টায় প্রায় ৫৫.৪ হাজার কিলোমিটার। তবে এই প্রচন্ড গতিতে চললেও, সৌরজগতের কাছাকাছি নক্ষত্রের কাছে পৌঁছাতে এর লাগবে ৪০ হাজার বছরেরও বেশি সময়। মানব সভ্যতা কি ততদিন টিকে থাকবে?

পৃথিবী থেকে মহাকাশযানের সাথে যোগাযোগ

ক্যানবেরার কাছে অবস্থিত নাসার ডীপ স্পেইস সেন্টারের ৭০ মিটারের বিশাল ডিশ এন্টিনা ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা এখন নিয়মিতভাবেই “ভয়েজার ২” মহাকাশযানের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। এই যোগাযোগ অব্যাহত রাখার জন্য এই ডিশ এন্টিনাটি কয়েক মাস আগে আপগ্রেড করা হয়েছে। এটিই এখন পৃথিবীর একমাত্র ডিশ এন্টিনা, যেটা দিয়ে “ভয়েজার ২” এর সাথে যোগাযোগ করা হয়। পৃথিবী থেকে “ভয়েজার ২” মহাকাশযানে রেডিও সংকেত পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ১৬ ঘন্টা। আর সেখান থেকে সংকেত ফিরে আসতে সময় লাগে আরো ১৬ ঘন্টা। অর্থাৎ এক দিনেরও বেশি সময় লাগে সংকেত আদান-প্রদান করতে।

যন্ত্রপাতির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ

“ভয়েজার ২” এর পাঁচটি ইন্সট্রুমেন্ট এখনো সচল রয়েছে।এগুলো থেকে নাসার বিজ্ঞানীরা দূরবর্তী মহাকাশ থেকে প্লাজমা এবং কসমিক রশ্মি সম্বন্ধে তথ্য পাচ্ছেন। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, “ভয়েজার ২” এর পারমাণবিক ব্যাটারি আরো কয়েক বছর সচল থাকবে এবং এর সাথে যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। তারপর এক সময়, এর শক্তির উৎস শেষ হয়ে যাবে, মহাকাশে হারিয়ে যাবে “ভয়েজার ২”। এখানে বলে রাখি, “ভয়েজার ২” এর যমজ বোন “ভয়েজার ১” মহাকাশে আরো দূরে অবস্থান করছে। এর সাথে যোগাযোগ ক্রমশই ক্ষীণ হয়ে আসছে।

মিশন সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য

“ভয়েজার ২’ মিশন সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন https://solarsystem.nasa.gov/missions/voyager-2/in-depth/

Tanvir Hossain

bichitrobiggan.com

তানভীর হোসেন ছাত্র জীবন থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখি করছেন। সহজ সরল বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করা তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে বিজ্ঞানে জন সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং তরুণ সমাজকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা তার লেখার মূল উদ্দেশ্য। তানভীর হোসেনের লেখা দুটো বিজ্ঞান বিষয়ক বই, "শতাব্দীর বিজ্ঞান" এবং "বিচিত্র বিজ্ঞান" পাঠক সমাদৃত হয়েছে।