চাঁদের এক অদেখা রূপ হঠাৎ করে যেন মানুষের চোখের সামনে খুলে গেল। আর্টেমিস – ২ মিশনের নভোচারীরা এবার এমন এক দৃশ্য পাঠিয়েছেন, যেটা মানব ইতিহাসে আগে কেউ নিজের চোখে দেখেনি – চাঁদের অরিয়েন্টালে বেসিনের সম্পূর্ণ রূপ। এই অরিয়েন্টালে বেসিন আসলে কোনো সাধারণ গর্ত নয়। প্রায় ৬০০ মাইল বিস্তৃত এক বিশাল আঘাতের দাগ। বিলিয়ন বছর আগে কোনো এক বিশাল মহাজাগতিক বস্তু চাঁদের গায়ে আছড়ে পড়ে এই দাগ তৈরি করেছিল। আঘাতের শক্তি এতটাই প্রবল ছিল যে কেন্দ্র থেকে ঢেউয়ের মতো বৃত্তাকার বলয় চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। ঠিক যেন স্থির কোন ঝিলের জলে পাথর ছুঁড়ে দিলে যেমন তরঙ্গ তৈরি হয়।
আড়ালে থাকা চন্দ্রপৃষ্ঠের রহস্য
কিন্তু এতদিন আমরা এর পুরোটা দেখতে পাইনি। কারণ এটি চাঁদের একেবারে এক প্রান্তে অবস্থান করছে। পৃথিবী থেকে আমরা চাঁদের যে অংশ দেখি, সেখানে এটি কেবল আংশিকভাবে, তাও তির্যক কোণে ধরা দেয়। ফলে পুরো কাঠামোটা যেন সবসময়ই আড়ালে থেকে গেছে। এই প্রথম মানুষ সেই আড়াল ভেঙে সরাসরি তাকালো তার দিকে। ওরায়েন মহাকাশযান থেকে তোলা ছবিতে সূর্যের আলো একপাশ থেকে তির্যকভাবে পড়েছে। সেই আলো-ছায়ার খেলায় যেন হঠাৎ করে বেসিনের গভীরতা, বলয় আর ভাঙাচোরা পৃষ্ঠকে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। কোটি কোটি বছরের পুরোনো সেই ক্ষতচিহ্ন যেন আবার নতুন করে জেগে উঠেছে। আর এই ছবিটি পৃথিবীতে ফিরে এসেছে আলোর গতিতে। কোনো সাধারণ রেডিও সিগন্যাল নয়, লেজারভিত্তিক অপটিক্যাল কমিউনিকেশন সিস্টেম ব্যবহার করে। মহাকাশের গভীর থেকে তথ্য আসছে আলোকে বাহন করে, প্রায় তাৎক্ষণিক গতিতে।
একদিকে বিলিয়ন বছর আগের এক আঘাতের চিহ্ন, অন্যদিকে আধুনিক প্রযুক্তির নিখুঁত ছোঁয়া। দুই সময় যেন একই ফ্রেমে এসে মিলেছে। আর চন্দ্রযাত্রা এখানেই থেমে নেই। এরপরের গন্তব্য চাঁদের সেই অপর পিঠ, যেটা মানুষের দৃষ্টির আড়ালে থাকে। চন্দ্রাভিযানের গল্প আবারো নতুন করে লেখা হচ্ছে।
