মূল কন্টেন্টে যান
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জীবনের বিজ্ঞান, মহাবিশ্বের মহাবিস্ময়, মহাকাশ অভিযানের কাহিনী, পদার্থের স্বরূপ, কালজয়ী বিজ্ঞানীদের গল্প – এসব নানা চমকপ্রদ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আমার লেখাগুলোকে নিয়ে তৈরি করেছি, ‘বিচিত্র বিজ্ঞান’ নামের এই ওয়েব সাইট।

প্রথম পাতামহাবিশ্বের মহাবিস্ময়আলট্রা ম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল: কসমিক হর্স সু…

আলট্রা ম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল: কসমিক হর্স সু ও মহাবিশ্বের দানব

৩০ অক্টোবর, ২০২৪

⏱ ৩ মিনিট পড়ার সময়

👁 ৩২৬ 💬 ০
আলট্রা ম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল: কসমিক হর্স সু ও মহাবিশ্বের দানব

মহাবিশ্বের নতুন বিস্ময়

মহাবিশ্ব আমাদের প্রতিনিয়ত চমকে দিচ্ছে। এবার এক বিশাল বিস্ময় উঠে এসেছে মহাকাশের অতল গহ্বর থেকে। আবিষ্কৃত হয়েছে মহাবিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্ল্যাকহোলগুলোর একটি, যাকে বিজ্ঞানীরা বলছেন, আলট্রা ম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল

এই দৈত্যাকার ব্ল্যাকহোলটি লুকিয়ে আছে এক রহস্যময় গ্যালাক্সির কেন্দ্রে, যার নাম LRG 3-757। তার চারপাশে সৃষ্টি হয়েছে এক অবিশ্বাস্য কসমিক দৃশ্য। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন, ‘কসমিক হর্স সু’ বা মহাজাগতিক ঘোড়ার নাল।

কসমিক হর্স সু ও গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং

এই অদ্ভুত নামটা এসেছে এর আকৃতি থেকে। দূরের কোনো গ্যালাক্সি থেকে আলো যখন অন্য কোন বিশাল গ্যালাক্সির পাশ দিয়ে আসে, তখন সেই গ্যালাক্সির প্রবল মহাকর্ষ দূরবর্তী আলোকে এমনভাবে বাঁকিয়ে দেয় যে পৃথিবী থেকে আমরা দেখতে পাই এক অর্ধবৃত্ত বা ঘোড়ার নালের মতো এক ধরনের অদ্ভুত আলোকচ্ছটা।

এই ঘটনাটাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে, গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং। আর এটি দূর মহাকাশে থাকা অনেক অদৃশ্য বস্তুর খোঁজ পেতে সাহায্য করে।

৩৬ বিলিয়ন সূর্যের ভর: এক অবিশ্বাস্য দানব

LRG 3-757 গ্যালাক্সির মাঝখানে যে ব্ল্যাকহোলটি রয়েছে, তার ভর মহাকাশ বিজ্ঞানীরা হিসেব করে বের করেছেন, ৩৬ বিলিয়ন সূর্যের সমান! হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। একটি ব্ল্যাকহোল আমাদের সূর্যের চেয়েও ৩৬,০০০,০০০,০০০ গুণ বেশি ভারী!

ভাবা যায়? এতদিন এমন অতি বিশাল ভরের ব্ল্যাকহোল কেবল অনুমানেই ছিল। এবার বিজ্ঞানীরা সরাসরি প্রমাণ পেলেন এমন এক ব্ল্যাকহোলের অস্তিত্বের, যা মহাকাশ গবেষণার এক নতুন দ্বার খুলে দিল।

গবেষণা ও আবিষ্কারের পদ্ধতি

এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন ব্রাজিলের জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্লোস মেলো-কার্নেইরো ও তাঁর দল। তাঁরা ব্যবহার করেছেন চিলিতে অবস্থিত পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী টেলিস্কোপ ও হাবল স্পেস টেলিস্কোপের ডেটা।

বিজ্ঞানীরা হিসেব করে দেখেছেন, এই কসমিক হর্স সু-এর আকৃতি যেভাবে গঠিত হয়েছে, তা কেবল তখনই সম্ভব যদি এর কেন্দ্রে এক বিশাল আলট্রা ম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল লুকিয়ে থাকে।

উৎপত্তি রহস্য: সংঘর্ষ নাকি বিবর্তন?

ব্ল্যাকহোল সাধারণত জন্ম নেয় নক্ষত্রদের বিস্ফোরণজনিত মৃত্যুর পর। তবে এত বিশাল বড় ব্ল্যাকহোল কীভাবে তৈরি হলো? এটা একটি অমীমাংসিত প্রশ্ন। তবে বিজ্ঞানীরা কিছু সম্ভাব্য কারণ ধারণা করছেন:

  • এটি হতে পারে বহু গ্যালাক্সির একত্রে সংঘর্ষের ফল।
  • এক সময় হয়তো এই গ্যালাক্সি একটি অতি সক্রিয় কোয়াসার (quasar) ছিল, যার কেন্দ্র থেকে তীব্র শক্তি নির্গত হতো।
  • আবার এটাও হতে পারে, এটি একটি ফসিল গ্যালাক্সি গ্রুপ, অর্থাৎ বহু ক্ষুদ্র ও প্রাচীন গ্যালাক্সির ধীরে ধীরে মিলে যাওয়া এক বিশাল দানব।

ভবিষ্যৎ গবেষণার দ্বার ও উপসংহার

এই আবিষ্কারটি শুধু একটা পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি আমাদের মহাবিশ্বের গঠন আর বিবর্তনের রহস্য আরও গভীরভাবে বোঝার সুযোগ দিচ্ছে।

ভবিষ্যতে ইউরোপের ইউক্লিড মিশন, অথবা চিলির এক্সট্রিমলি লার্জ টেলিস্কোপ (ELT) যদি এ ধরনের আরও ঘটনা আবিষ্কার করতে পারে, তাহলে হয়তো আমরা বুঝে উঠতে পারবো, বিশাল ব্ল্যাকহোল আর গ্যালাক্সি একসাথে কীভাবে বিকশিত হয়েছে বিগত কোটি কোটি বছরে।

Tanvir Hossain

bichitrobiggan.com

তানভীর হোসেন ছাত্র জীবন থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখি করছেন। সহজ সরল বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করা তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে বিজ্ঞানে জন সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং তরুণ সমাজকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা তার লেখার মূল উদ্দেশ্য। তানভীর হোসেনের লেখা দুটো বিজ্ঞান বিষয়ক বই, "শতাব্দীর বিজ্ঞান" এবং "বিচিত্র বিজ্ঞান" পাঠক সমাদৃত হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *