মূল কন্টেন্টে যান
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
সৌরজগৎ English

জীবনের বিজ্ঞান, মহাবিশ্বের মহাবিস্ময়, মহাকাশ অভিযানের কাহিনী, পদার্থের স্বরূপ, কালজয়ী বিজ্ঞানীদের গল্প – এসব নানা চমকপ্রদ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আমার লেখাগুলোকে নিয়ে তৈরি করেছি, ‘বিচিত্র বিজ্ঞান’ নামের এই ওয়েব সাইট।

প্রথম পাতা › নোবেল পুরষ্কার › ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন…

২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন ফ্রান্সিস হ্যালজেন

৬ অক্টোবর, ২০২৬

⏱ ২ মিনিট পড়ার সময়

👁 ১৪ 💬 ০
শেয়ার ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ টেলিগ্রাম এক্স
English
২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন ফ্রান্সিস হ্যালজেন

মহাবিশ্ব থেকে প্রতি মুহূর্তে অসংখ্য অদৃশ্য কণা আমাদের শরীর ভেদ করে চলে যাচ্ছে। আমরা এর কিছুই টের পাই না। এই রহস্যময় কণার নাম, নিউট্রিনো।

এই নিউট্রিনো শনাক্ত করে মহাবিশ্বকে দেখার নতুন এক জানালা খুলে দিয়েছেন পদার্থবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হ্যালজেন। আর সেই অসাধারণ কাজের স্বীকৃতিতেই তিনি এককভাবে পেলেন ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার।

বরফের নিচে চোখ

নিউট্রিনো ধরা অত্যন্ত কঠিন। কারণ এরা বৈদ্যুতিকভাবে নিরপেক্ষ এবং সাধারণ পদার্থের সঙ্গে খুব কমই মিথস্ক্রিয়া করে। এমনকি পৃথিবীর ভেতর দিয়েও প্রায় বাধাহীনভাবে চলে যেতে পারে।

এই অধরা কণাকে ধরতেই হ্যালজেনের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের সহযোগিতায় গড়ে ওঠে অভিনব এক ব্যবস্থা, যার নাম আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি।

এটি কোনো পাহাড়ের চূড়ায় বসানো টেলিস্কোপ নয়। এর বিশাল ডিটেক্টর বসানো হয়েছে অ্যান্টার্কটিকার দক্ষিণ মেরুর বরফের গভীরে। প্রায় এক ঘনকিলোমিটার বরফজুড়ে বসানো হয়েছে ৫,১৬০টি আলোক-সংবেদনশীল ডিটেক্টর। এগুলো অপেক্ষা করে থাকে নিউট্রিনোর মিথস্ক্রিয়ায় তৈরি হওয়া ক্ষীণ আলোর সংকেতের জন্য।

ধরা পড়ল বার্তা

২০১৩ সালে আইসকিউব গবেষকেরা ২৮টি অতি উচ্চ-শক্তির ঘটনা বিশ্লেষণ করে শক্তিশালী প্রমাণ পান যে এসব নিউট্রিনোর একটি অংশ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তৈরি নয়, এসেছে মহাকাশের বহু দূরের উৎস থেকে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের জন্য এটা ছিল এক নতুন ধরনের বার্তা।

দৃশ্যমান আলো দিয়ে আমরা মহাবিশ্ব দেখি। রেডিও তরঙ্গ, এক্স-রে ও গামা রশ্মি দিয়েও মহাকাশ পর্যবেক্ষণ করি। কিন্তু নিউট্রিনোর বিশেষত্ব হলো, এটি মহাবিশ্বের এমন সব ঘন অঞ্চল থেকেও তথ্য বহন করে আনতে পারে, যেখান থেকে আলো সহজে বেরিয়ে আসতে পারে না।

নতুন জানালা

এই কারণেই হ্যালজেনের কাজ এত গুরুত্বপূর্ণ। নিউট্রিনো ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা এখন মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও রহস্যময় ঘটনাগুলোর উৎস খুঁজছেন। সক্রিয় গ্যালাক্সির কেন্দ্র, ব্ল্যাকহোলের আশপাশ কিংবা অতি উচ্চ-শক্তির মহাজাগতিক কণার উৎস।

যে কণাকে একসময় প্রায় ধরাই অসম্ভব মনে হতো, সেই ‘ভৌতিক কণা’ই এখন হয়ে উঠেছে মহাবিশ্বের গভীর রহস্য জানার নতুন বার্তাবাহক।

অ্যান্টার্কটিকার বরফের গভীরে বসানো এক বিশাল চোখ আজ আমাদের দেখাচ্ছে মহাবিশ্বের এমন এক রূপ, যেটা শুধু আলো দিয়ে দেখা সম্ভব নয়।

এ বছরের পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কার তাই শুধু একটি অসাধারণ পরীক্ষার স্বীকৃতি নয়। এটি মহাবিশ্বকে দেখার সম্পূর্ণ নতুন একটি পথ খুলে দেওয়ার স্বীকৃতি।

শেয়ার ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ টেলিগ্রাম এক্স

Raisul Sohan

bichitrobiggan.com

বিজ্ঞান অনুরাগী। শখের বিজ্ঞান লেখক।