মূল কন্টেন্টে যান
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
সৌরজগৎ English

জীবনের বিজ্ঞান, মহাবিশ্বের মহাবিস্ময়, মহাকাশ অভিযানের কাহিনী, পদার্থের স্বরূপ, কালজয়ী বিজ্ঞানীদের গল্প – এসব নানা চমকপ্রদ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আমার লেখাগুলোকে নিয়ে তৈরি করেছি, ‘বিচিত্র বিজ্ঞান’ নামের এই ওয়েব সাইট।

প্রথম পাতা › নোবেল পুরষ্কার › ফিজিওলজি বা মেডিসিনে নোবেল পুরস্কার ২০২৬

ফিজিওলজি বা মেডিসিনে নোবেল পুরস্কার ২০২৬

৫ অক্টোবর, ২০২৬

⏱ ২ মিনিট পড়ার সময়

👁 ৩৬ 💬 ০
শেয়ার ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ টেলিগ্রাম এক্স
English
ফিজিওলজি বা মেডিসিনে নোবেল পুরস্কার ২০২৬

২০২৬ সালের ফিজিওলজি বা মেডিসিনে নোবেল পুরস্কার পেলেন কার্ল ডাইসেরথ, পিটার হেগেমান ও গেয়র্গ নাগেল। এবছর যৌথভাবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, লাইট গেইটেড আয়ন চ্যানেল এবং অপটোজেনেটিক্সের ভিত্তি আবিষ্কার করার জন্য।

হেগেমান ও নাগেলের গবেষণার সূত্রপাত হয় এক ধরনের এককোষী সবুজ শৈবাল নিয়ে। তাঁরা সেখানে “চ্যানেলরোডপসিন” নামে আলো-সংবেদনশীল প্রোটিন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি আবিষ্কার করেন। নীল আলো পড়লে এই প্রোটিনের আয়ন চ্যানেল খুলে যায়। ফলে কোষের ভেতর-বাইরে বৈদ্যুতিক চার্জের প্রবাহ তৈরি হয়।

এরপর ডাইসেরথ এই ধারণাকে স্নায়ুবিজ্ঞানে নিয়ে যান। চ্যানেলরোডপসিনের জিন স্নায়ুকোষে প্রবেশ করিয়ে তিনি দেখান, আলো ব্যবহার করে নির্দিষ্ট নিউরনকে অত্যন্ত দ্রুত চালু করা সম্ভব। জন্ম নেয় অপটোজেনেটিক্স।

এর গুরুত্ব বিশাল। আমাদের মস্তিষ্কে কোটি কোটি নিউরন একসঙ্গে কাজ করে। কোন নিউরন বা নিউরনের সার্কিট স্মৃতি, ভয়, আবেগ কিংবা আচরণের সঙ্গে জড়িত, সেটা আলাদা করে বোঝা অত্যন্ত কঠিন।

অপটোজেনেটিক্স বিজ্ঞানীদের হাতে যেন একটি সূক্ষ্ম আলোর সুইচ তুলে দিয়েছে। নির্দিষ্ট নিউরনকে আলো দিয়ে চালু বা বন্ধ করে দেখা যায়, সেটি মস্তিষ্কের কোন কাজের সঙ্গে যুক্ত।

আজ বিশ্বজুড়ে স্নায়ুবিজ্ঞানের গবেষণাগারে এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে সেটা বোঝার পাশাপাশি বিভিন্ন স্নায়বিক ও মানসিক রোগের গবেষণায়ও এটি নতুন পথ খুলে দিয়েছে। এমনকি দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা নিয়েও অপটোজেনেটিক্সভিত্তিক গবেষণা চলছে।

একটি ক্ষুদ্র শৈবালের আলোক সংবেদনশীল প্রোটিন থেকে শুরু হওয়া গবেষণা শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের হাতে তুলে দিয়েছে মস্তিষ্কের নিউরন নিয়ন্ত্রণের এক অভূতপূর্ব হাতিয়ার।

সেই আবিষ্কারের স্বীকৃতিই এবার পেল ফিজিওলজি অথবা মেডিসিনে নোবেল পুরস্কার। তিনজন নতুন নোবেল লরিয়েটকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।

শেয়ার ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ টেলিগ্রাম এক্স

Tanvir Hossain

bichitrobiggan.com

তানভীর হোসেন ছাত্র জীবন থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখি করছেন। সহজ সরল বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করা তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে বিজ্ঞানে জন সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং তরুণ সমাজকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা তার লেখার মূল উদ্দেশ্য। তানভীর হোসেনের লেখা দুটো বিজ্ঞান বিষয়ক বই, "শতাব্দীর বিজ্ঞান" এবং "বিচিত্র বিজ্ঞান" পাঠক সমাদৃত হয়েছে।