মূল কন্টেন্টে যান
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
সৌরজগৎ English

জীবনের বিজ্ঞান, মহাবিশ্বের মহাবিস্ময়, মহাকাশ অভিযানের কাহিনী, পদার্থের স্বরূপ, কালজয়ী বিজ্ঞানীদের গল্প – এসব নানা চমকপ্রদ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আমার লেখাগুলোকে নিয়ে তৈরি করেছি, ‘বিচিত্র বিজ্ঞান’ নামের এই ওয়েব সাইট।

প্রথম পাতা › মহাকাশ বিজ্ঞান › সৌরজগতের বাইরে নতুন এক ‘সুপার আর্থ’…

সৌরজগতের বাইরে নতুন এক ‘সুপার আর্থ’ গ্রহের সন্ধান!

১২ মার্চ, ২০২৬

⏱ ২ মিনিট পড়ার সময়

সর্বশেষ হালনাগাদ: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

👁 ৭৫ 💬 ০
শেয়ার ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ টেলিগ্রাম এক্স
সৌরজগতের বাইরে নতুন এক ‘সুপার আর্থ’ গ্রহের সন্ধান!

HD 20794 d: প্রাণের সম্ভাবনাময় নতুন গ্রহ

বিজ্ঞানীরা সৌরজগতের বাইরে,
HD 20794 d নামে নতুন একটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন, যেখানে প্রাণের অস্তিত্বের
সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে!

এক্সোপ্ল্যানেট ও আবিষ্কারের নেপথ্য কাহিনী

আমাদের সৌরজগতের বাইরে অবস্থিত গ্রহগুলোকে বলা হয়,  এক্সোপ্ল্যানেট। অক্সফোর্ড
ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী ড. মাইকেল ক্রেটিগনিয়ার ২০২২ সালে প্রথম এই
এক্সোপ্ল্যানেটের  খোঁজ পান। এই গ্রহটি পৃথিবী থেকে ১৯.৭ আলোকবর্ষ দূরে, সূর্যের
মতো সাইজের একটি নক্ষত্রকে ঘিরে ঘুরছে।

সুপার আর্থ ও গ্রহটির ভৌত বৈশিষ্ট্য

নতুন আবিষ্কৃত গ্রহটি পৃথিবীর চেয়ে ছয় গুণ ভারী। পৃথিবী থেকে দুই থেকে দশ গুন ভারী এক্সোপ্ল্যানেটকে বলা হয়, সুপার আর্থ। নতুন আবিষ্কৃত এই সুপার আর্থ রয়েছে নক্ষত্রটির বাসযোগ্য অঞ্চলে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই গ্রহে তরল পানি থাকতে পারে। তবে এর কক্ষপথ বেশ লম্বাটে। গ্রহটি কখনও নক্ষত্রটির খুব কাছে চলে আসে, আবার কখনও অনেক দূরে সরে যায়। এর ফলে, গ্রহের তাপমাত্রা বেশ ওঠানামা করে।

দীর্ঘ গবেষণার পর গ্রহটির অস্তিত্ব নিশ্চিতকরণ

গ্রহটির অস্তিত্ব নিয়ে বিজ্ঞানীরা প্রথমে নিশ্চিত হতে পারেননি। কারণ এর উপস্থিতির সংকেত ছিল খুবই ক্ষীণ। কিন্তু চিলির HARPS ও ESPRESSO স্পেকট্রোগ্রাফ ব্যবহার করে ২০ বছরের ডেটা পরীক্ষা করে তাঁরা এখন নিশ্চিত হয়েছেন, এটি সত্যিই একটি নতুন গ্রহ!

অ্যাস্ট্রো-বায়োলজি গবেষণায় নতুন দিগন্ত

যদিও এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না যে HD 20794 d-তে প্রাণের অস্তিত্ব আছে কি না। তবে এর অবস্থান পৃথিবীর কাছাকাছি হওয়াতে এটা অ্যাস্ট্রো-বায়োলজি গবেষণার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, বিজ্ঞানীরা এখন এই গ্রহের বায়ুমণ্ডলে বায়ো-সিগনেচার বা জীবনের চিহ্ন খুঁজবেন।

পৃথিবী-সদৃশ গ্রহ এবং বিজ্ঞানীদের প্রত্যাশা

ড. ক্রেটিগনিয়ার বলেন, “আমার কাজ শুধু নতুন গ্রহ খুঁজে বের করা। কিন্তু এটি নিয়ে আমি এখন খুবই আগ্রহী। অন্যান্য বিজ্ঞানীরা এই গ্রহ সম্পর্কে আরও অনেক তথ্য বের করবেন”। তিনি মনে করছেন, এটি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের পৃথিবী-সদৃশ গ্রহগুলোর একটি, যা ভবিষ্যতে নতুন কোন সম্ভাবনার ইঙ্গিত বহন করে।

গবেষণার ফলাফল ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

সম্প্রতি এই গবেষণার ফলাফল, “জার্নাল অফ অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স”- এ প্রকাশিত হয়েছে। এই গবেষণাটি বসবাসযোগ্য এক্সোপ্ল্যানেট অনুসন্ধানে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলস্টোন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

শেয়ার ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ টেলিগ্রাম এক্স

Tanvir Hossain

bichitrobiggan.com

তানভীর হোসেন ছাত্র জীবন থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখি করছেন। সহজ সরল বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করা তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে বিজ্ঞানে জন সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং তরুণ সমাজকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা তার লেখার মূল উদ্দেশ্য। তানভীর হোসেনের লেখা দুটো বিজ্ঞান বিষয়ক বই, "শতাব্দীর বিজ্ঞান" এবং "বিচিত্র বিজ্ঞান" পাঠক সমাদৃত হয়েছে।