Homeমহাকাশ বিজ্ঞানআলোকোজ্জ্বল আকাশগঙ্গা: ছায়াপথের কেন্দ্রের রহস্য

আলোকোজ্জ্বল আকাশগঙ্গা: ছায়াপথের কেন্দ্রের রহস্য

অ্যাস্ট্রোফটোগ্রাফিতে আকাশগঙ্গার রূপ

সেদিন ছিল অমাবস্যা। রাতের আকাশ ছিল স্ফটিক স্বচ্ছ। অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরা শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে, খুব ঘন অন্ধকার একটি স্থান থেকে এই ছবিটি তুলেছিলাম‌, লং এক্সপোজার অ্যাস্ট্রোফটোগ্রাফির কিছু টেকনিক ব্যবহার করে। ছবিটিতে আকাশগঙ্গা ছায়াপথের কেন্দ্রের উজ্জ্বলতা স্পষ্ট ভাবে দৃশ্যমান হয়েছে।

ছায়াপথের কেন্দ্রে নক্ষত্রের ঘনত্ব

আমাদের গ্যালাক্সির কেন্দ্রের এই অতি উজ্জ্বলতার পেছনে মূলত দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, গ্যালাক্সির কেন্দ্রে নক্ষত্রের ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি। আমাদের সূর্য এবং তার আশেপাশে যে পরিমাণ নক্ষত্র রয়েছে, গ্যালাক্সির কেন্দ্রে নক্ষত্র রয়েছে তার ১০ মিলিয়ন গুণ বেশি। সুতরাং সেখানে আলোর উজ্জ্বলতাও অনেক বেশি হওয়াটাই স্বাভাবিক।

সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের উপস্থিতি ও নোবেল জয়

দ্বিতীয়তঃ, আমাদের গ্যালাক্সির কেন্দ্রে রয়েছে একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল। এর ভর সূর্যের চেয়ে ৪০ মিলিয়ন গুণ বেশি। এখানে বলে রাখি, আমাদের গ্যালাক্সির কেন্দ্রের সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলটি আবিষ্কার করার জন্য দু’জন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ২০২০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। এদের নাম, অ্যান্ড্রিয়া গেজ এবং রেইন হার্ড গেঞ্জেল।‌

অ্যাক্রেশন ডিস্ক এবং আলোকরশ্মি বিকিরণ

এই দানব ব্ল্যাকহোলটিকে ঘিরে রয়েছে একটি ঘূর্ণায়মান অ্যাক্রেশন ডিস্ক বা পরিবৃদ্ধি চক্র। এটি প্রচন্ড বেগে ঘুরছে। এই ঘূর্ণনের ফলে চক্রের ভেতরে অবস্থিত বস্তুকণা, বিশেষত ইলেকট্রন অতি উত্তপ্ত হয়ে আলোকরশ্মি বিকিরণ করছে।

হাইড্রোজেন মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকা উজ্জ্বলতা

এই দুই সম্মিলিত কারণে আমাদের গ্যালাক্সির কেন্দ্রটি এতো উজ্জ্বল।‌ তবে এই উজ্জ্বল আলোর বেশিরভাগ অংশই ঢাকা পড়ে আছে ঘন হাইড্রোজেনের মেঘের আড়ালে। এই ঘন মেঘের আবরণ না থাকলে গ্যালাক্সির কেন্দ্রটিকে পূর্ণিমার চাঁদের মতোই উজ্জ্বল মনে হতো। তখন প্রতিটি রাতই হতো পূর্ণিমার রাতের মতো উজ্জ্বল!

Tanvir Hossainhttps://bichitrobiggan.com
তানভীর হোসেন ছাত্র জীবন থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখি করছেন। সহজ সরল বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করা তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে বিজ্ঞানে জন সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং তরুণ সমাজকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা তার লেখার মূল উদ্দেশ্য। তানভীর হোসেনের লেখা দুটো বিজ্ঞান বিষয়ক বই, "শতাব্দীর বিজ্ঞান" এবং "বিচিত্র বিজ্ঞান" পাঠক সমাদৃত হয়েছে।
RELATED ARTICLES

Most Popular