HomeUncategorizedদুই পূর্ণিমা, দুই চাঁদ!

দুই পূর্ণিমা, দুই চাঁদ!

চাঁদের প্রথম ছবিটি ক্যানবেরার আকাশে তোলা, দ্বিতীয়টি গতরাতে ঢাকার আকাশে। দু’টোই আমার তোলা পূর্ণিমার চাঁদের ছবি – একই খানাখন্দ, একই লাভা-সমভূমি, একই উজ্জ্বল রশ্মিবিশিষ্ট ক্রেটার। তবু ছবিগুলো পাশাপাশি রাখলেই মনে হয় যেন চাঁদটিকে কেউ ঘুরিয়ে দিয়েছে। আসলে চাঁদ নয়, ঘুরে গেছে আমাদের দৃষ্টিকোণ।
ক্যানবেরা পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধে, প্রায় ৩৫° দক্ষিণ অক্ষাংশে অবস্থিত। অন্যদিকে ঢাকা প্রায় ২৪° উত্তর অক্ষাংশে। অর্থাৎ দু’টি শহরের মধ্যে অক্ষাংশগত পার্থক্য প্রায় ৫৯ ডিগ্রি। এই বিশাল অক্ষাংশ পার্থক্যের কারণেই আকাশে চাঁদের মুখ আমাদের কাছে ভিন্ন অরিয়েন্টেশনে দেখা যায়।
ঢাকা থেকে পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকালে যে দিকটিকে আমরা “উপরে” মনে করি, ক্যানবেরা থেকে তাকালে সেই দিকটি আর উপরে থাকে না। কারণ দুই স্থানে পর্যবেক্ষকের স্থানীয় দিগন্ত ও আকাশের অভিমুখ এক নয়।
পৃথিবীর ভিন্ন প্রান্ত থেকে মহাকাশের দিকে তাকানোর সময় আমরা একটি গোলকের ভিন্ন পাশে দাঁড়িয়ে একই বস্তুকে দেখছি।
এ কারণে ক্যানবেরার ছবিতে চাঁদের পরিচিত লাভা-সমভূমিগুলো (যেমন মারে ইমব্রিয়াম ও ওশেনাস প্রোসেলারাম) ঢাকার ছবির তুলনায় স্পষ্টভাবে অন্যদিকে অবস্থান করছে। বিখ্যাত উজ্জ্বল ক্রেটার টাইকো থেকে বেরিয়ে আসা সাদা রশ্মিগুলোর অবস্থানও ঘুরে গেছে বলে মনে হচ্ছে। চাঁদের কোনো বৈশিষ্ট্য বদলায়নি; বদলেছে শুধু দর্শকের অবস্থান।
এটাকে অনেকটা পৃথিবীর একটি মানচিত্রকে ঘুরিয়ে দেখার মতো বলা যায়। মানচিত্র একই থাকে, কিন্তু আপনি যদি সেটিকে ৬০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে ধরেন, তাহলে নদী, পাহাড় আর শহরগুলোর অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন মনে হবে। চাঁদের ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই ঘটেছে।
আরও মজার বিষয় হলো, এই প্রভাবকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা লুনার অরিয়েন্টেশন বা প্যারাল্যাক্টিক রোটেশনের ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের পর্যবেক্ষকরা একই চাঁদকে ভিন্ন “উপরে-নিচে” অভিমুখে দেখেন। তাই অস্ট্রেলিয়ার আকাশে যে পূর্ণিমা দেখা যায়, সেটি বাংলাদেশের আকাশের পূর্ণিমার তুলনায় অনেকটা ঘোরানো বলে মনে হয়।
অর্থাৎ এই দুটি ছবি শুধু চাঁদের ভিন্ন ছবি নয়; এগুলো পৃথিবীর গোলাকার আকৃতিরও প্রমাণ। একই মহাজাগতিক বস্তু, কিন্তু পৃথিবীর দুই ভিন্ন অক্ষাংশ থেকে তাকানোর ফলে তার মুখ যেন বদলে যায়। আসলে চাঁদ বদলায় না। বদলে যায় আমাদের অবস্থান, আর সেই সঙ্গে বদলে যায় মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিকোণ।
Tanvir Hossainhttps://bichitrobiggan.com
তানভীর হোসেন ছাত্র জীবন থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখি করছেন। সহজ সরল বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করা তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে বিজ্ঞানে জন সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং তরুণ সমাজকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা তার লেখার মূল উদ্দেশ্য। তানভীর হোসেনের লেখা দুটো বিজ্ঞান বিষয়ক বই, "শতাব্দীর বিজ্ঞান" এবং "বিচিত্র বিজ্ঞান" পাঠক সমাদৃত হয়েছে।
RELATED ARTICLES

Most Popular