Homeপ্রকৃতি ও পরিবেশগ্লোবাল ভূমিকম্পের ঢেউ

গ্লোবাল ভূমিকম্পের ঢেউ

মাত্র আট ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে আঘাত হেনেছে একের পর এক শক্তিশালী ভূমিকম্প। ঘটনাগুলো যেন মনে করিয়ে দিল, পৃথিবীর অভ্যন্তরের টেকটোনিক শক্তি কখনোই পুরোপুরি ঘুমিয়ে থাকে না।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় কম্পন

প্রথমে কেঁপে ওঠে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়া। মেনডোসিনো কাউন্টিতে ৫.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে হাজারো মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। আতঙ্ক ছড়ালেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

জাপান ও পাপুয়া নিউগিনিতে শক্তিশালী ভূকম্পন

এর কয়েক ঘণ্টা পর জাপানের ইওয়াতে উপকূলের কাছে আঘাত হানে ৭.২ মাত্রার শক্তিশালী কম্পন। কিন্তু ভূমিকম্প-সহনশীল অবকাঠামো আর দ্রুত সতর্কতা ব্যবস্থার কারণে জাপানও বড় বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হয়। সুনামির আশঙ্কাও দেখা যায়নি। প্রায় একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্বে পাপুয়া নিউগিনির কাছে ৫.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছে, এতে ক্ষয়ক্ষতির কোন খবর পাওয়া যায়নি।

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্প ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

কিন্তু সবচেয়ে বড় আঘাত আসে ভেনেজুয়েলায়। সেখানে ঘটে বিরল “জোড়া” ভূমিকম্প। অল্প সময়ের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী কম্পন। রাজধানী কারাকাসসহ উত্তর উপকূলীয় এলাকায় বহু ভবন ধসে পড়ে। এখন পর্যন্ত অন্তত কয়েক শত মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরো অনেক বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বৈশ্বিক ভূমিকম্পের মধ্যে কি কোনো সংযোগ রয়েছে?

এত কম সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে এমন ধারাবাহিক ভূমিকম্প হওয়ায় অনেকে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছেন, এগুলো কি কোনোভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত? ভূতত্ত্ববিদদের উত্তর পরিষ্কার: না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিটি ভূমিকম্পই আলাদা ফল্টলাইনে ঘটেছে। অর্থাৎ এগুলো কোনো বৈশ্বিক ভূকম্পন-শৃঙ্খলের অংশ নয়, বরং এক বিরল ভূতাত্ত্বিক কাকতালীয় ঘটনা।

তবু ঘটনাগুলো একটি সত্য আবারও সামনে এনেছে। আমরা এমন এক জীবন্ত গ্রহে বাস করি, যার গভীরে প্রতিনিয়ত টেকটোনিক শক্তির পুনর্বিন্যাস চলছে। আর সেই অদৃশ্য অস্থিরতার নামই ভূমিকম্প।

Tanvir Hossainhttps://bichitrobiggan.com
তানভীর হোসেন ছাত্র জীবন থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখি করছেন। সহজ সরল বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করা তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে বিজ্ঞানে জন সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং তরুণ সমাজকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা তার লেখার মূল উদ্দেশ্য। তানভীর হোসেনের লেখা দুটো বিজ্ঞান বিষয়ক বই, "শতাব্দীর বিজ্ঞান" এবং "বিচিত্র বিজ্ঞান" পাঠক সমাদৃত হয়েছে।
RELATED ARTICLES

Most Popular