Homeজীবনের বিজ্ঞানজীবনের স্টার্ট বাটন: NANOG জিন কীভাবে মানব ভ্রূণের বিকাশ শুরু করে?

জীবনের স্টার্ট বাটন: NANOG জিন কীভাবে মানব ভ্রূণের বিকাশ শুরু করে?

মানুষের জীবন আসলে কখন শুরু হয়? নিষিক্ত ডিম্বাণুর ভেতরে ঠিক কোন মুহূর্তে জীবনের জৈবিক নকশা চালু হয়- এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে বিজ্ঞান বহুদিন ধরে। এবার সেই রহস্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ উন্মোচন করেছেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।

মানব ভ্রূণের বিকাশে NANOG জিনের ভূমিকা

তাদের নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, NANOG নামে একটি জিন মানুষের ভ্রূণীয় বিকাশের একটি প্রধান সূচনাকারী হিসেবে কাজ করে। সহজ ভাষায়, এটি যেন জীবনের এক ধরনের “স্টার্ট বাটন”। এই জিন সক্রিয় না হলে নিষিক্ত ডিম্বাণুর কোষ বিভাজন চলতে পারে, কিন্তু প্রকৃত ভ্রূণ গঠনের মূল কর্মসূচি শুরু হয় না।

বেস এডিটিং প্রযুক্তির অভাবনীয় সাফল্য

গবেষকরা এই গবেষণায় ব্যবহার করেছেন সূক্ষ্ম জিন-সম্পাদনা প্রযুক্তি, যার নাম – বেস এডিটিং। প্রচলিত ক্রিসপার পদ্ধতির মতো ডিএনএ কেটে নয়, বরং একটি মাত্র জিনগত অক্ষর বদলে তারা NANOG কার্যক্রম বন্ধ করে দেখেছেন কী ঘটে। এর ফল ছিল বিস্ময়কর।

বাইরে থেকে NANOG বন্ধ ভ্রূণগুলো দেখতে স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে তাদের বিকাশের মৌলিক পরিকল্পনাই থেমে যায়। অর্থাৎ শুধু ভ্রুণের চেহারা দেখে বোঝা যায় না, জীবনের গভীরতম নির্দেশনা ঠিকমতো কাজ করছে কি না।

আইভিএফ ও ভবিষ্যৎ চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা

এই আবিষ্কারের গুরুত্ব বিশাল। আইভিএফ চিকিৎসায় কেন অনেক “স্বাভাবিক” ভ্রূণও ব্যর্থ হয়, তার ব্যাখ্যা মিলতে পারে। একই সঙ্গে গবেষণা, পুনর্জনন চিকিৎসা এবং ভবিষ্যতের জিন থেরাপিতেও এটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে বিজ্ঞানীরা সতর্কও করছেন।এখনই জিন-সম্পাদিত শিশু তৈরির সময় আসেনি। কারণ প্রযুক্তি এখনও পুরোপুরি নির্ভুল নয়।

একটি মাত্র নিষিক্ত কোষ থেকে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ তৈরি হওয়া প্রকৃতির সবচেয়ে জটিল ও বিস্ময়কর প্রক্রিয়াগুলোর একটি। আর সেই মহাযাত্রার দরজায় দাঁড়িয়ে আছে ছোট্ট একটি জিন – NANOG। জীবনের শুরুটা সত্যিই এক সুইচ টেপার মতোই বিস্ময়কর।

তথ্যসূত্র:

https://www.nature.com/articles/d41586-026-02027-0

Tanvir Hossainhttps://bichitrobiggan.com
তানভীর হোসেন ছাত্র জীবন থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখি করছেন। সহজ সরল বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করা তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে বিজ্ঞানে জন সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং তরুণ সমাজকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা তার লেখার মূল উদ্দেশ্য। তানভীর হোসেনের লেখা দুটো বিজ্ঞান বিষয়ক বই, "শতাব্দীর বিজ্ঞান" এবং "বিচিত্র বিজ্ঞান" পাঠক সমাদৃত হয়েছে।
RELATED ARTICLES

Most Popular