Homeপ্রকৃতি ও পরিবেশশতবর্ষে ডেভিড অ্যাটেনবরো

শতবর্ষে ডেভিড অ্যাটেনবরো

আজ থেকে ঠিক একশ বছর আগে, ১৯২৬ সালের ৮ মে জন্ম নিয়েছিলেন এক অসাধারণ মানুষ – ডেভিড অ্যাটেনবরো। পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের কাছে তিনি শুধু একজন টিভি উপস্থাপক নন, বরং প্রকৃতির এক অনন্য গল্পকার।

শৈশবে ছোট্ট ডেভিডের শখ ছিল পাথর, জীবাশ্ম আর পাখির ডিম সংগ্রহ করা। পরবর্তীতে সেই কৌতূহলই তাকে নিয়ে যায় পৃথিবীর গভীর জঙ্গল, বরফাচ্ছন্ন মেরু অঞ্চল, আগ্নেয়গিরির ঢাল কিংবা সমুদ্রের তলদেশে। গত সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যের বিস্ময়কর সৌন্দর্য।

ডেভিড অ্যাটেনবরোর Planet Earth, Blue Planet, Life on Earth কিংবা Frozen Planet এইসব ডকুমেন্টারিগুলো শুধু টেলিভিশন অনুষ্ঠান নয়। এগুলো যেন পৃথিবী নামের জীবন্ত গ্রহটির মহাকাব্য। তাঁর শান্ত অথচ গভীর কণ্ঠে প্রকৃতির গল্প শুনে বড় হয়েছে কয়েক প্রজন্ম।

ডেভিড অ্যাটেনবরোর বিশেষত্ব হলো, তিনি বিজ্ঞানের কঠিন তথ্যকে সাধারণ মানুষের আবেগের সঙ্গে মিলিয়ে বলতে পারেন। তিনি দেখিয়েছেন একটি জীবন্ত প্রবালপ্রাচীর, দূর সমুদ্রের একটি অতিকায় তিমি, এমনকি একটি ক্ষুদ্র পোকাও এই পৃথিবীর বিশাল জীবজগতের অপরিহার্য অংশ।

কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যের গল্পই বলেননি, মানুষকে সতর্কও করেছেন। জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড়, প্লাস্টিক দূষণ আর প্রজাতি বিলুপ্তির বিপদ নিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী কণ্ঠস্বর।

একশ বছরের এই দীর্ঘ জীবনে ডেভিড অ্যাটেনবরো নিজের চোখে দেখেছেন পৃথিবীর বিস্ময়কর রূপান্তর। মানুষের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি প্রকৃতির ক্রমশ বিপর্যয়ের তিনি একজন প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি দেখেছেন, সভ্যতা যত এগিয়েছে, ততই হারিয়ে গেছে অরণ্যের সবুজ, নিঃশব্দ হয়েছে অসংখ্য প্রাণের কোলাহল। তাই তিনি বারবার মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, পৃথিবী শুধু মানুষের নয়, সব প্রাণেরই যৌথ আবাসভূমি। তাঁর ভাষায়, “মানুষ যদি প্রকৃতিকে রক্ষা করে, প্রকৃতিও মানুষকে রক্ষা করবে।”

শতবর্ষে এই মহান প্রকৃতিবিদকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা। শুভ জন্মদিন স্যার ডেভিড অ্যাটেনবরো।
Tanvir Hossainhttps://bichitrobiggan.com
তানভীর হোসেন ছাত্র জীবন থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখি করছেন। সহজ সরল বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করা তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে বিজ্ঞানে জন সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং তরুণ সমাজকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা তার লেখার মূল উদ্দেশ্য। তানভীর হোসেনের লেখা দুটো বিজ্ঞান বিষয়ক বই, "শতাব্দীর বিজ্ঞান" এবং "বিচিত্র বিজ্ঞান" পাঠক সমাদৃত হয়েছে।
RELATED ARTICLES

Most Popular