শ্রোডিঙ্গারের বিড়াল ও সুপারপজিশন ধারণা
শ্রোডিঙ্গারের বিড়াল, এই নামটা শুনলেই মাথায় আসে কোয়ান্টামের সেই রহস্যময় কল্পনা, যেখানে একটি বিড়াল একই সাথে জীবিত আর মৃত অবস্থায় থাকতে পারে। অবশ্য যতক্ষণ পর্যন্ত বিড়ালটাকে কেউ দেখে না ফেলে। কিন্তু এটা বাস্তবের ঘটনা নয়, এটা একটা থট এক্সপেরিমেন্ট। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়, কোয়ান্টাম জগতে কোন কণা একই সাথে একাধিক অবস্থায় থাকতে পারে—যাকে বলে সুপারপজিশন।
কোয়ান্টাম অবস্থা ও তাপমাত্রার চ্যালেঞ্জ
এই সুপারপজিশন অবস্থা বাস্তবে টিকিয়ে রাখা খুবই কঠিন। কারণ একটু উষ্ণতা হলেই কোয়ান্টাম অবস্থা ভেঙে যায়, সবকিছু আবার ক্লাসিকাল জগতে ফিরে আসে। তাই এতদিন এই ধরনের কোয়ান্টাম পরীক্ষা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা ব্যবহার করতেন পরম ঠান্ডা পরিবেশ, যেখানে তাপমাত্রা রাখা হয় একদম শূন্য ডিগ্রি কেলভিনের কাছাকাছি।
উষ্ণ পরিবেশে নতুন কোয়ান্টাম রেকর্ড
কিন্তু এবার বিজ্ঞানীরা চমকে দিলেন। অস্ট্রিয়ার ইনসব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক, ড. গেরহার্ড কির্শমায়ারের নেতৃত্বে, প্রথমবারের মতো এমন একটা “শ্রোডিঙ্গারের বিড়ালের” মতো কোয়ান্টাম অবস্থা তৈরি করেছেন যেটা খানিকটা উষ্ণ পরিবেশেও টিকে থাকতে পেরেছে। তাঁরা কাজ করেছেন ট্রান্সমন কিউবিট আর মাইক্রোওয়েভ রেজোনেটর নিয়ে, আর তৈরি করেছেন একধরনের কোয়ান্টাম অবস্থা, যেটা ১.৮ কেলভিন তাপমাত্রায়ও সুপারপজিশনে থাকতে পেরেছে।যেটা আগের রেকর্ডের তুলনায় প্রায় ৬০ গুণ বেশি উষ্ণ।
থার্মাল নয়েজ ও সফল কৌশল
এই সফলতার পেছনে ছিল খুব নিখুঁতভাবে বানানো একধরনের পালস, আর থার্মাল নয়েজের বিরুদ্ধে বিশেষভাবে তৈরি কিছু কৌশল। এতেই দেখা গেল, শ্রোডিঙ্গারের বিড়ালটা, মানে সেই কোয়ান্টাম অবস্থা, তাপমাত্রা খানিকটা বাড়লেও হুট করে মরে যাচ্ছে না, বরং বেঁচে থাকছে, সুপারপজিশনে থেকেই যাচ্ছে!
ভবিষ্যতের কোয়ান্টাম প্রযুক্তির সম্ভাবনা
গবেষকরা বলছেন, যদি সিস্টেমে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, তাহলে তাপমাত্রা খুব বড় সমস্যা নয়। আর এটাই যদি সত্যি হয়, তাহলে ভবিষ্যতের কোয়ান্টাম কম্পিউটার, সেন্সর, বা অন্যান্য কোয়ান্টাম ডিভাইস বানানো অনেক সহজ হবে। তখন আর বিশাল রকম ঠান্ডা করে রাখতে হবে না, বরং তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক পরিবেশেই কাজ চালানো যাবে।
কোয়ান্টাম বিজ্ঞানের এক নতুন দিগন্ত
এটা শুধুই এক পরীক্ষামূলক সাফল্য নয়। এটা প্রমাণ করেছে, কোয়ান্টামের খেলা শুধু পরম-ঠান্ডা ল্যাবেই নয়, একটু হালকা উষ্ণ পরিবেশেও চলতে পারে। এই আবিষ্কার ভবিষ্যতের জন্য এক নতুন দরজা খুলে দিয়েছে, যেখানে কোয়ান্টাম প্রযুক্তি হয়তো একদিন আমাদের নিত্য জীবনের অংশ হয়ে উঠবে।
