Homeবিবিধ বিজ্ঞানপাখিদের রঙ: কেন পুরুষ পাখি রঙিন আর স্ত্রী পাখি নিষ্প্রভ হয়?

পাখিদের রঙ: কেন পুরুষ পাখি রঙিন আর স্ত্রী পাখি নিষ্প্রভ হয়?

প্রকৃতিতে পাখিদের রঙের বৈচিত্র্য

লেকের পাড়ে হাঁটতে গিয়ে হঠাৎ নজরে পড়লো ছোট্ট দু’টি টিয়া পাখি। একটি পাখির গায়ে যেন রঙের উৎসব—ঝলমলে সবুজ, লাল, আর নীল পালকে  সূর্যের আলোয় ঝিকিমিকি করছে। আরেকজন অনেক নিষ্প্রভ, যেন পাতার রঙে যেন নিজেকে মিশিয়ে ফেলেছে।

লিঙ্গভেদে পাখির রূপের ভিন্নতা

প্রথম দেখাতেই বুঝলাম, রঙিন পাখিটি নিশ্চয়ই পুরুষ, আর অন্যটি স্ত্রী পাখি। আর তখনই মনে হলো, প্রকৃতিতে কেন এমনটা হয়? কেন পুরুষ পাখিরা এত রঙিন, আর স্ত্রী পাখিরা হয় নিষ্প্রভ?

পুরুষ পাখির উজ্জ্বল রঙের রহস্য

এর উত্তরটা নিছক সৌন্দর্যের নয়, বরং প্রকৃতির মাঝে বেঁচে থাকার গল্প। পুরুষ পাখির ঝলমলে রঙ, পালকের ছটা, আর সুরেলা ডাক, সবই আসলে প্রেমের আহ্বান। স্ত্রী পাখিকে যেন সে বোঝাতে চায়, “দেখো, আমি সুন্দর, আমি সুস্থ, আমার জিন ভালো—তোমাকে আমি সুস্থ ও সুন্দর সন্তানের নিশ্চয়তা দিতে পারি, তুমি আমার কাছে এসো”।

স্ত্রী পাখির আত্মরক্ষার কৌশল

আর স্ত্রী পাখির পাতার সঙ্গে মিশে যাওয়া হালকা রঙ? সেটাও তার বেঁচে থাকার তাগিদে। তাকে তো বসে থাকতে হবে ডিমে তা দিতে, শিকারিদের চোখ এড়িয়ে নিঃশব্দে লুকিয়ে। উজ্জ্বল রঙ হলে সে তো শিকারির নজরে পড়ে যাবে সহজেই! এজন্যই তার পালকে রঙের বাহার কম।‌

প্রকৃতির ভারসাম্য ও বিবর্তনের পরিকল্পনা

এই দুই ছোট্ট পাখির মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে প্রকৃতির নিখুঁত পরিকল্পনা। একজন আলোয় নিজেকে মেলে ধরে, আরেকজন ছায়ায় নিজেকে আড়াল করে। একজন ডাক দেয় ভালোবাসার, আর অন্যজন বাঁচিয়ে রাখে সেই ভালোবাসার সম্ভাবনা।

Tanvir Hossainhttps://bichitrobiggan.com
তানভীর হোসেন ছাত্র জীবন থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখি করছেন। সহজ সরল বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করা তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে বিজ্ঞানে জন সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং তরুণ সমাজকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা তার লেখার মূল উদ্দেশ্য। তানভীর হোসেনের লেখা দুটো বিজ্ঞান বিষয়ক বই, "শতাব্দীর বিজ্ঞান" এবং "বিচিত্র বিজ্ঞান" পাঠক সমাদৃত হয়েছে।
RELATED ARTICLES

Most Popular