Homeবিজ্ঞানীদের কথাপল বার্গ: জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জনক ও নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানীর জীবনগাথা

পল বার্গ: জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জনক ও নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানীর জীবনগাথা

প্রফেসর পল বার্গের মহাপ্রয়াণ ও সংক্ষিপ্ত পরিচয়

আজ থেকে ঠিক দু’বছর আগে, ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি লোকান্তরিত হয়েছিলেন প্রফেসর পল বার্গ। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর। ড: পল বার্গ ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড মেডিকেল স্কুলের বায়োকেমিস্ট্রির এমেরিটাস অধ্যাপক। সত্তরের দশকের শুরুতে তিনিই সর্বপ্রথম একটি প্রজাতির ডিএনএ অন্য একটি প্রজাতির মধ্যে সফলভাবে স্থানান্তর করতে সক্ষম হন।

রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তির ঐতিহাসিক উদ্ভাবন

ই কোলাই ব্যাকটেরিয়া থেকে ডিএনএ নিয়ে এস ভি ৪০ ভাইরাসের ডিএনএর ভিতর তিনি সফলভাবে প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলে, রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ টেকনোলজি । সহজ ভাষায়‌‌ এই প্রযুক্তিকে বলে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। ১৯৭২ সালে বিশ্বখ্যাত PNAS জার্নালে এ বিষয়ে তাঁর একটি গবেষণা পত্র প্রকাশিত হয়েছিল।

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জনক ও নোবেল স্বীকৃতি

বর্তমান যুগে রুটিন ব্যাপার হলেও, অর্ধশতক আগে এটি ছিল একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার। মূলত পল বার্গের হাত ধরেই রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তির সূচনা হয়েছিল। এজন্য তাঁকে বলা হয়, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জনক। এই গবেষণার জন্য তিনি ১৯৮০ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।

আধুনিক কৃষি ও চিকিৎসায় এই প্রযুক্তির বৈপ্লবিক প্রভাব

তাঁর এই আবিষ্কারের ফলে, জীববিজ্ঞানে এক নতুন যুগের সূচনা হয়। বর্তমান যুগের বিজ্ঞানীরা রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন নতুন বৈশিষ্ট্যের অনেক ধরনের শস্য উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে কীটপতঙ্গ প্রতিরোধী; রোগ-বালাই সহিষ্ণু; ভিটামিন সমৃদ্ধ নানা জাতের শস্য। এছাড়া ঔষধ শিল্পেও এই প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্যান্সার নিরাময় থেকে শুরু করে, কৃত্রিম ইনসুলিন, গ্রোথ হরমোন, মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি, ভ্যাকসিন উৎপাদন ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে গবেষণার জন্য কোটি কোটি ডলার ব্যায় করা হচ্ছে। সারা বিশ্বেই জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ নিয়ে গবেষণা জোরদার হচ্ছে। বাংলাদেশেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ খোলা হয়েছে।

নিভৃতচারী বিজ্ঞানী ও তাঁর অমর কর্মময় জীবন

পরিতাপের বিষয় হলো, দু’বছর আগে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বিজ্ঞানী ড: পল বার্গের তিরোধান হলেও তাঁকে নিয়ে পত্র-পত্রিকায় তেমন কোন লেখালেখি দেখি নাই। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই তাঁর নাম জানে না। ক্ষণজন্মা বিজ্ঞানীরা হয়তো এভাবে নীরবেই চলে যান। কিন্তু তাঁরা বেঁচে থাকেন তাঁদের কাজের মাধ্যমে।

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জনকের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা

আজ তাঁর প্রয়াণ দিবসে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জনক অধ্যাপক পল বার্গের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা।

Tanvir Hossainhttps://bichitrobiggan.com
তানভীর হোসেন ছাত্র জীবন থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখি করছেন। সহজ সরল বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করা তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে বিজ্ঞানে জন সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং তরুণ সমাজকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা তার লেখার মূল উদ্দেশ্য। তানভীর হোসেনের লেখা দুটো বিজ্ঞান বিষয়ক বই, "শতাব্দীর বিজ্ঞান" এবং "বিচিত্র বিজ্ঞান" পাঠক সমাদৃত হয়েছে।
RELATED ARTICLES

Most Popular