কোয়ান্টাম রহস্য ও হুফ্টের দ্বিমত
নোবেলজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী জেরার্ড ’ত হুফ্ট সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের প্রচলিত ব্যাখ্যার কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, কোয়ান্টাম তত্ত্বকে যদি আমরা চিরন্তন রহস্য হিসেবে মেনে নেই, তাহলে বিজ্ঞানের অগ্রগতি থমকে যাবে।
তিনি বলেন, আজকের বিজ্ঞানীরা যেন ধরেই নিয়েছেন—কোয়ান্টাম মেকানিক্স কখনোই নিশ্চিত উত্তর দিতে পারবে না, এটি কেবল সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেবে। এই বিশ্বাসই আমাদের কল্পনাশক্তিকে বেঁধে ফেলেছে। তাই তিনি বিজ্ঞানীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন—একটু থামুন, পেছনে ফিরে দেখুন, এবং মূল প্রশ্নগুলো আবার করুন।
প্রকৃতির নিয়ম ও নিশ্চিত উত্তর
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি আমরা কোয়ান্টাম মেকানিক্স দিয়ে শুরু না করতাম, তাহলে প্রকৃতির নিয়মগুলো কেমন হতো? তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, প্রকৃতির রহস্য একদিন আমরা ঠিকই বুঝব। মহাবিশ্বের রহস্য আমাদের চিরকাল অজানা থাকবে, এই ধারণাটি ভুল।
তাঁর ভাবনা মূলধারার কোপেনহেগেন ব্যাখ্যা (Copenhagen interpretation) এবং মেনি-ওয়ার্ল্ডস (Many-worlds) ব্যাখ্যার সম্পূর্ণ বিপরীত। ’ত হুফ্ট মনে করেন:
- এই ব্যাখ্যাগুলো আসল উত্তর নয়।
- এগুলো সত্য অনুসন্ধানের পথের মধ্যবর্তী ধাপ মাত্র।
তাই তিনি চান, আমরা যেন কোয়ান্টাম তত্ত্বকে নতুন চোখে দেখি—একটি প্রশ্ন হিসেবে, উত্তর হিসেবে নয়।
নোবেলজয় ও বিজ্ঞানে অবদান
তাঁর কথায় যথেষ্ট ওজন আছে, কারণ তিনি তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের একজন জীবন্ত কিংবদন্তি। তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি সম্প্রতি বিজ্ঞানের সবচেয়ে উচ্চমূল্যের পুরস্কার “ব্রেকথ্রু প্রাইজ” পেয়েছেন।
এর আগে ১৯৯৯ সালে তিনি তাঁর শিক্ষক মার্টিনাস ভেল্টম্যানের সঙ্গে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। তাঁদের নোবেল জয়ের কারণ ছিল:
- সাবঅ্যাটোমিক কণার আচরণ ব্যাখ্যা করার জন্য গেজ তত্ত্ব-কে (Gauge Theory) গাণিতিকভাবে স্থিতিশীল করা।
- তাঁদের এই কাজ আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের মূল স্তম্ভ স্ট্যান্ডার্ড মডেল-এর শক্ত ভিত্তি স্থাপন করেছে।
অর্থাৎ, জেরার্ড ’ত হুফ্ট শুধু কোয়ান্টাম তত্ত্বের ভিত শক্ত করেননি, সেই ভিতকে প্রশ্ন করতেও সাহস দেখিয়েছেন। এখন তাঁর প্রশ্ন—বর্তমানে আমরা যে কাঠামো দেখছি, সেটাই কি চূড়ান্ত সত্য?
বিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ ও সাহসিকতা
তাঁর চোখে বিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ শুধু জটিল সমীকরণের ভেতর নয়, বরং বাস্তবতার প্রকৃতি নিয়ে গভীর অনুসন্ধানের মধ্যেও নিহিত রয়েছে। তাঁর এই বক্তব্য বিজ্ঞানী মহলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছে যে, বিজ্ঞান এগোয় প্রশ্ন করার সাহস নিয়েই।
’ত হুফ্ট যেন আমাদের বলছেন, নতুন কিছু বুঝতে হলে এবং সামনে এগোতে হলে, কখনো কখনো একটু পেছনে ফিরে তাকানো প্রয়োজন।
