Thursday, January 15, 2026

জীবনের বিজ্ঞান, মহাবিশ্বের মহাবিস্ময়, মহাকাশ অভিযানের কাহিনী, পদার্থের স্বরূপ, কালজয়ী বিজ্ঞানীদের গল্প - এসব নানা চমকপ্রদ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আমার লেখাগুলোকে নিয়ে তৈরি করেছি , 'বিচিত্র বিজ্ঞান' নামের এই ওয়েব সাইট। বিজ্ঞানের প্রতি মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি করা এবং বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করার ইচ্ছে নিয়েই সহজ-সরল বাংলা ভাষায় লেখাগুলো এই সাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।  আশা করছি, দিনে দিনে আরো নিত্যনতুন লেখা যোগ করা হবে।

Homeমহাকাশ বিজ্ঞানব্ল্যাকহোলের প্রথম ছবি: আইনস্টাইনের তত্ত্ব ও ইভেন্ট হরাইজন

ব্ল্যাকহোলের প্রথম ছবি: আইনস্টাইনের তত্ত্ব ও ইভেন্ট হরাইজন

আইনস্টাইন ও আলোর বক্রতা

১৯১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল থেকে একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল। সেই সূর্যগ্রহণের সময় নক্ষত্রের আলো পরীক্ষা করে প্রখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী স্যার আর্থার এডিংটন আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের সত্যতা প্রমাণ করেছিলেন।

আইনস্টাইনই প্রথম বলেছিলেন আলোর উপর মহাকর্ষের প্রভাব রয়েছে। এর ফলে আলোকরশ্মির গতিপথ বাঁকা হয়ে যেতে পারে। সেই পরীক্ষার মাধ্যমেই জগতবাসী জানল, মহাকর্ষ কেবল বল নয়, স্থান-কালের বক্রতাও বটে।

ব্ল্যাকহোল ও ঘটনা-দিগন্ত

বিজ্ঞানীরা এখন জানেন, এমন অনেক মহাজাগতিক বস্তু রয়েছে যাদের মহাকর্ষ বলের প্রভাব এতই বেশি যে সেগুলো থেকে কখনও কোন আলোকরশ্মিই বের হতে পারে না। শুধু আলোকরশ্মিই নয়, তাদের প্রবল মহাকর্ষ গ্রাস করে নেয় আশেপাশের সব কিছুকে। এসব মহাজাগতিক বস্তুর নাম হলো ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণ বিবর।

ব্ল্যাকহোলের কাছাকাছি একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা থাকে যা একবার অতিক্রম করলে সেখান থেকে ফেরার আর কোনো উপায় থাকে না। এই সীমার ভিতরে যেকোনো বস্তুকেই ব্ল্যাকহোল গ্রাস করে নেয়। এই সীমারেখাটার নাম হল ইভেন্ট হরাইজন বা ঘটনা-দিগন্ত।

শতাব্দী পেরিয়ে নতুন প্রমাণ

আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব প্রমানিত হওয়ার ঠিক এক শতাব্দী পর, ২০১৯ সালে এসে বিজ্ঞানীরা ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা এবার একটি ব্ল্যাকহোলের ছবি তুলতে সক্ষম হয়েছেন। একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সেই ছবিটি তাঁরা প্রকাশ করেছেন।

এখন প্রশ্ন হলো ব্ল্যাকহোল থেকে যদি কোন আলোই বের হতে না পারে, তবে ব্ল্যাকহোলের প্রথম ছবি কীভাবে তোলা সম্ভব হলো? কারণ অন্ধকার বস্তুর ছবি তোলা তো সাধারণ ক্যামেরায় সম্ভব নয়।

কীভাবে তোলা হলো এই ছবি?

এটা সম্ভব হয়েছে ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপের মাধ্যমে। সারা পৃথিবী জুড়ে আটটি ইভেন্ট হরাইজন রেডিও টেলিস্কোপের সাহায্যে দূরবর্তী একটি গ্যালাক্সির কেন্দ্রে এই বিশাল আকৃতির ব্ল্যাকহোলটির সন্ধান পাওয়া গেছে।

ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে যে ব্ল্যাকহোলের কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ অন্ধকার, কিন্তু তার প্রবল মহাকর্ষের প্রভাবে ইভেন্ট হরাইজনের বাইরের আলো বেঁকে যাচ্ছে তার দিকে। একশ বছরের ব্যবধানে আবারও প্রমাণিত হলো মহাবিজ্ঞানী আইনস্টাইনের তত্ত্ব। জয় হোক বিজ্ঞানের।

Tanvir Hossainhttps://bichitrobiggan.com
তানভীর হোসেন ছাত্র জীবন থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখি করছেন। সহজ সরল বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করা তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে বিজ্ঞানে জন সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং তরুণ সমাজকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা তার লেখার মূল উদ্দেশ্য। তানভীর হোসেনের লেখা দুটো বিজ্ঞান বিষয়ক বই, "শতাব্দীর বিজ্ঞান" এবং "বিচিত্র বিজ্ঞান" পাঠক সমাদৃত হয়েছে।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular