শৈশব ও এডুকেশন এক্সটেনশন সেন্টার
আমি তখন খুবই ছোট। ক্লাস ওয়ান অথবা টুতে পড়ি। আমরা তখন থাকতাম ঢাকা কলেজের পেছনে। এডুকেশন এক্সটেনশন সেন্টারের আবাসিক এলাকায়। লোকজন সংক্ষেপে বলতো সেন্টার।
সারাদিন সেন্টারে টোটো করে ঘুরে বেড়ানোই তখন আমার কাজ। পড়াশুনার চেয়ে খেলাধুলাটাই প্রধান। সেন্টারের বিশাল চত্বর ছিল আমাদের দুরন্ত শৈশবের খেলার মাঠ।
জামীলদের বাসা ও সেই ডাক
একদিন গেছি জামীলদের বাসায়। জামীল আমার বন্ধু। ওদের বাসাটা অনেক বড়, খেলার অনেক জায়গা। আমরা মনের আনন্দে খেলছিলাম। খেলার মাঝেই হঠাৎ আমার ডাক পড়লো।
জামীলের বাবা আমাকে ডাকছেন। ভয়ে ভয়ে গেলাম। সাধারণত বন্ধুদের বাবারা ডাকলে একটু ভয় তো লাগেই। উনি আমাকে খুব স্নেহভরে কাছে ডাকলেন। তারপর জিগ্যেস করলেন, “তুমি বাংলা পড়তে পারো?”
আমি আমতা আমতা করে বললাম, “পারি।”
প্রথম বিজ্ঞান বই উপহার
উনি তখন আমার হাতে একটি বই দিয়ে বললেন, “এই বইটার নাম পড়তো।”
আমি বইটা হাতে নিয়ে বানান করে করে নামটা পড়লাম— ‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে’।
উনি তখন হেসে বললেন, “এইতো পড়তে পারো দেখছি। ঠিক আছে বইটা তুমি রাখতে পারো, বইটা তোমাকে দিলাম।”
লেখকের পরিচয় ও বিস্ময়
পরে দেখি বইটার লেখকের নাম, আব্দুল্লাহ আল-মুতী। কি অবাক কান্ড! এটা যে জামীলের আব্বারই নাম। তবে উনিই কি লিখেছেন বইটা? ছোট মনে তখন রাজ্যের বিস্ময়।
খুব আনন্দ হয়েছিলো বইটা পেয়ে। জীবনে প্রথম কোনো লেখকের কাছ থেকে তাঁর লেখা বই উপহার পেলাম। আর সেই সাথে বিজ্ঞানের রাজ্যের প্রথম দেখাও পেলাম ওই বইটা থেকেই। সেই ছোটবেলার স্মৃতি আজও আমার মনে উজ্জ্বল হয়ে আছে।
