Sunday, November 30, 2025

জীবনের বিজ্ঞান, মহাবিশ্বের মহাবিস্ময়, মহাকাশ অভিযানের কাহিনী, পদার্থের স্বরূপ, কালজয়ী বিজ্ঞানীদের গল্প - এসব নানা চমকপ্রদ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আমার লেখাগুলোকে নিয়ে তৈরি করেছি , 'বিচিত্র বিজ্ঞান' নামের এই ব্লগ সাইট। বিজ্ঞানের প্রতি মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি করা এবং বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করার ইচ্ছে নিয়েই সহজ-সরল বাংলা ভাষায় লেখাগুলো এই সাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এই সাইটে এখন, দেড়শোর বেশি বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা রয়েছে। আশা করছি, দিনে দিনে আরো নিত্যনতুন লেখা যোগ করা হবে।

Homeজীবনের বিজ্ঞানএকটি সাদাকালো গল্প

একটি সাদাকালো গল্প

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিনের চলতি সংখ্যার (এপ্রিল ২০১৮) প্রচ্ছদে দুটি মেয়ের ছবি ছাপা হয়েছে। ওদের একজনের নাম মিলি আর অন্যজনের নাম মার্সিয়া। মিলি হলো কৃষ্ণাঙ্গ আর মার্সিয়া শেতাঙ্গ। মজার ব্যাপার হলো ওরা দুজন আপন বোন। শুধু আপন বোনই নয় ওরা দুজন যমজ বোন।

ওদের বাবা কৃষ্ণাঙ্গ আর মা শেতাঙ্গ। আর ওরা হলো নন আইডেন্টিকাল টুইন। তারমানে যমজ হলেও ওদের জন্ম হয়েছে মায়ের গর্ভে দুইটি ভিন্ন ডিম্বাণু থেকে। বাবার শুক্রাণু দুইটি ডিম্বাণুকে পৃথক পৃথক ভাবে নিষিক্ত করেছিল। যার একটি থেকে জন্ম নিয়েছে মিলি আর অন্যটি থেকে জন্ম নিয়েছে মার্সিয়া। আর জেনেটিক কারণে ওদের একজন পেয়েছে বাবার ত্বকের বৈশিষ্ট্য আর অন্যজন পেয়েছে মার  ত্বকের বৈশিষ্ট্য। এরকম সাদা কালো যমজ বাচ্চা খুব একটা দেখা যায়না।

বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন মানুষের গায়ের রঙের জন্য মাত্র কয়েকটি জিন দায়ী। এই জিনগুলি মানুষের ত্বকের মেলানিন নামের  প্রোটিনের পরিমান নির্ধারণ করে। মানুষের ত্বকে মেলানিনের আধিক্য থাকলে ত্বকের রং হয় কালো, আর কম থাকলে হয় সাদা। কিন্তু কালো আর সাদার মাঝামাঝি আরো অনেকের বর্ণের মানুষ রয়েছে, যেমন পীত, বাদামী ইত্যাদি। বিজ্ঞানীরা ফসিল রেকর্ড থেকে দেখেছেন, তিন লক্ষ বছর আগে আদি মানবের উদ্ভব হয়েছিল আফ্রিকাতে।  তখন সব মানুষই ছিলো কৃষ্ণবর্ণ। তারপর এই আদি মানবদের একদল আফ্রিকা থেকে  বেরিয়ে এসে ইউরোপ, এশিয়া এবং আমেরিকা মহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। হাজার বছরের পরিক্রমায় মিউটেশনের ফলে
মানুষের ত্বকের জিনের পরিবর্তন হয় এবং
বিভিন্ন বর্ণের মানুষের উদ্ভব ঘটে। তবে মানব জিনোমের বিশালত্বের কাছে এই জেনেটিক পরিবর্তনটি অতি তুচ্ছ ও নগন্য।

অথচ এই অতি সামান্য জেনেটিক
পরিবর্তনটি মানবসমাজে বর্ণবাদের মতো ভয়াবহ প্রথার জন্ম দিয়েছে যার কুপ্রভাব থেকে মানুষ এখনো মুক্ত হতে পারেনি।  পৃথিবীর অনেক সমাজে এখনো বর্ণবাদ প্রকাশ্যে অথবা অপ্রকাশ্যে বিরাজমান।  এখনো অনেক সমাজে সাদাকে কালোর চেয়ে উন্নত মনে করা হয়। কালো মানুষকে বঞ্চিত করে রাখা হয় বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে। মানুষ প্রায়শই ভুলে যায় যে কালো আর সাদা শুধুই বাহ্যিক আবরণ মাত্র, সকল বর্ণের মানুষই  আসলে সমান, একই ধরিত্রীর সন্তান‌ । মিলি আর মার্সিয়া দুই যমজ বোন তারই সাক্ষ্য বহন করে চলেছে।

Tanvir Hossain
Tanvir Hossainhttps://bichitrobiggan.com
তানভীর হোসেন ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে প্রবল উৎসাহী। ‌স্কুলে পড়ার সময় অনুসন্ধানী বিজ্ঞান ক্লাবের সাথে জড়িত ছিলেন। তরুণ বয়স থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখি করছেন। তার লেখা বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ বিভিন্ন সময় পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়েছে। সাম্প্রতিক কালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি বিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলো সাধারণ পাঠকদের জন্য সহজবোধ্য ভাষায় তুলে ধরেছেন। সহজ সরল বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করা তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে বিজ্ঞানে জন সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং তরুণ সমাজকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা তার লেখার মূল উদ্দেশ্য। তার লেখা দুটো বিজ্ঞান বিষয়ক বই, "শতাব্দীর বিজ্ঞান" এবং "বিচিত্র বিজ্ঞান" পাঠক সমাদৃত হয়েছে। লেখালেখির পাশাপাশি দেশ ভ্রমণ এবং মহাকাশের ছবি তোলা তার প্রধান শখ। তানভীর হোসেনের জন্ম এবং বেড়ে ওঠা ঢাকা শহরে। পড়াশোনা করেছেন ঢাকার গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, ঢাকা কলেজ এবং শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। কৃষি বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি করার পর জেনেটিক্স এবং প্ল্যান্ট ব্রিডিংয়ে মাস্টার্স করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পরবর্তীতে একই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট করেন। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে বিজ্ঞানী হিসেবে এক দশক কাজ করার পর অভিবাসী হিসেবে পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়।‌ তারপর দীর্ঘ পঁচিশ বছর অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার পর অবসর নিয়েছেন। বর্তমানে আই পি পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments