Sunday, November 30, 2025

জীবনের বিজ্ঞান, মহাবিশ্বের মহাবিস্ময়, মহাকাশ অভিযানের কাহিনী, পদার্থের স্বরূপ, কালজয়ী বিজ্ঞানীদের গল্প - এসব নানা চমকপ্রদ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আমার লেখাগুলোকে নিয়ে তৈরি করেছি , 'বিচিত্র বিজ্ঞান' নামের এই ব্লগ সাইট। বিজ্ঞানের প্রতি মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি করা এবং বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করার ইচ্ছে নিয়েই সহজ-সরল বাংলা ভাষায় লেখাগুলো এই সাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এই সাইটে এখন, দেড়শোর বেশি বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা রয়েছে। আশা করছি, দিনে দিনে আরো নিত্যনতুন লেখা যোগ করা হবে।

Homeবিজ্ঞানীদের কথাকপ্রেকার ধ্রুবক — ৬১৭৪

কপ্রেকার ধ্রুবক — ৬১৭৪

যে কোনো চার অংকের সংখ্যা নিন। কিন্তু শর্ত হলো চারটি ডিজিট যেন সবগুলো একই না হয়। প্রথমে ডিজিটগুলো বড় থেকে ছোট করে সাজিয়ে একটি সংখ্যা লিখুন। তারপর ছোট থেকে বড় করে সাজিয়ে আরেকটি সংখ্যা লিখুন। এবার বড় সংখ্যাটি থেকে ছোট সংখ্যাটি বিয়োগ করুন। যে বিয়োগফল পাবেন, সেটিকে নিয়েই আবার একই পদ্ধতিতে বড় থেকে ছোট, এবং ছোট থেকে বড় করে সাজিয়ে আবার বিয়োগ করুন। এভাবে কয়েক ধাপ চালিয়ে যেতে থাকলে দেখবেন, বিয়োগফল এসে দাঁড়াবে ৬১৭৪-তে। আর একবার ৬১৭৪-তে পৌঁছালে এরপর আর সেটা বদলাবে না।

সংখ্যাতত্ত্বের এই অদ্ভুত আচরণের বিষয়টি আবিষ্কার করেছিলেন ডি. আর. কপ্রেকার।  তিনি ছিলেন একজন দক্ষিণ ভারতীয় শৌখিন গণিতবিদ ও স্কুলশিক্ষক। সংখ্যাতত্ত্বের নানা মজার বৈশিষ্ট্য নিয়ে কাজ করতে গিয়েই তিনি সংখ্যা সাজানো এবং বিয়োগের এই অসাধারণ খেলায় আবিষ্কার করেন তাঁর বিখ্যাত কপ্রেকার ধ্রুবক – ৬১৭৪।

একটি উদাহরণ দেখুন:

শুরু করি ৩৫২৪ দিয়ে।

সবচেয়ে বড় সংখ্যা: ৫৪৩২

সবচেয়ে ছোট সংখ্যা: ২৩৪৫

বিয়োগফল: ৫৪৩২ − ২৩৪৫ = ৩০৮৭

এবার ৩০৮৭ দিয়ে:

সবচেয়ে বড় সংখ্যা: ৮৭৩০

সবচেয়ে ছোট সংখ্যা: ০৩৭৮

বিয়োগফল: ৮৭৩০ − ০৩৭৮ = ৮৩৫২

এবার ৮৩৫২ দিয়ে:

সবচেয়ে বড় সংখ্যা: ৮৫৩২

সবচেয়ে ছোট সংখ্যা: ২৩৫৮

বিয়োগফল: ৮৫৩২ − ২৩৫৮ = ৬১৭৪

এখন ৬১৭৪ পেলাম। এবারও একইভাবে:

সবচেয়ে বড় সংখ্যা: ৭৬৪১

সবচেয়ে ছোট সংখ্যা: ১৪৬৭

বিয়োগফল: ৭৬৪১ − ১৪৬৭ = ৬১৭৪

এবং এখানেই বিয়োগফল স্থির হয়ে যাবে। আপনি যে চারটি সংখ্যা দিয়েই শুরু করুন না কেন, কয়েকটি ধাপ শেষে গিয়ে একই ৬১৭৪-তেই থামবে। সর্বোচ্চ সাতটি ধাপ লাগতে পারে। 

যে কোন চার অংকের সংখ্যা নিয়ে নিজে চেষ্টা করে দেখতে পারেন। তবে চারটি ডিজিট যেন সবগুলো একই না হয়, যেমন ১১১১, ২২২২ এগুলো চলবে না।

Tanvir Hossain
Tanvir Hossainhttps://bichitrobiggan.com
তানভীর হোসেন ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে প্রবল উৎসাহী। ‌স্কুলে পড়ার সময় অনুসন্ধানী বিজ্ঞান ক্লাবের সাথে জড়িত ছিলেন। তরুণ বয়স থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখি করছেন। তার লেখা বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ বিভিন্ন সময় পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়েছে। সাম্প্রতিক কালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি বিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলো সাধারণ পাঠকদের জন্য সহজবোধ্য ভাষায় তুলে ধরেছেন। সহজ সরল বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করা তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে বিজ্ঞানে জন সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং তরুণ সমাজকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা তার লেখার মূল উদ্দেশ্য। তার লেখা দুটো বিজ্ঞান বিষয়ক বই, "শতাব্দীর বিজ্ঞান" এবং "বিচিত্র বিজ্ঞান" পাঠক সমাদৃত হয়েছে। লেখালেখির পাশাপাশি দেশ ভ্রমণ এবং মহাকাশের ছবি তোলা তার প্রধান শখ। তানভীর হোসেনের জন্ম এবং বেড়ে ওঠা ঢাকা শহরে। পড়াশোনা করেছেন ঢাকার গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, ঢাকা কলেজ এবং শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। কৃষি বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি করার পর জেনেটিক্স এবং প্ল্যান্ট ব্রিডিংয়ে মাস্টার্স করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পরবর্তীতে একই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট করেন। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে বিজ্ঞানী হিসেবে এক দশক কাজ করার পর অভিবাসী হিসেবে পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়।‌ তারপর দীর্ঘ পঁচিশ বছর অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার পর অবসর নিয়েছেন। বর্তমানে আই পি পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments