Thursday, January 15, 2026

জীবনের বিজ্ঞান, মহাবিশ্বের মহাবিস্ময়, মহাকাশ অভিযানের কাহিনী, পদার্থের স্বরূপ, কালজয়ী বিজ্ঞানীদের গল্প - এসব নানা চমকপ্রদ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আমার লেখাগুলোকে নিয়ে তৈরি করেছি , 'বিচিত্র বিজ্ঞান' নামের এই ওয়েব সাইট। বিজ্ঞানের প্রতি মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি করা এবং বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করার ইচ্ছে নিয়েই সহজ-সরল বাংলা ভাষায় লেখাগুলো এই সাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।  আশা করছি, দিনে দিনে আরো নিত্যনতুন লেখা যোগ করা হবে।

Homeমহাকাশ বিজ্ঞানপৃথিবী ও চাঁদ: সৃষ্টি, দূরত্ব এবং আমাদের অস্তিত্বে চাঁদের প্রভাব

পৃথিবী ও চাঁদ: সৃষ্টি, দূরত্ব এবং আমাদের অস্তিত্বে চাঁদের প্রভাব

আমাদের বাসভূমি পৃথিবী সৌরজগতের তৃতীয় গ্রহ। আর চাঁদ হলো পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ এবং আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী। সৌরজগতের সূচনা লগ্নে প্রায় সাড়ে চার বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবী ও চাঁদ-এর সৃষ্টি হয়েছিল। সেই থেকে মাধ্যাকর্ষণের বাঁধায় পড়ে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে চলেছে চাঁদ।

মহাজাগতিক স্কেলে পৃথিবী ও চাঁদ একে অপরের খুব কাছেই বলা যায়। এদের গড় দূরত্ব ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার। চাঁদ থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে মাত্র ১.৩ সেকেন্ড।

পৃথিবী ও চাঁদ: মহাকাশযানের চোখে দূরত্ব

সৌরজগতে চাঁদ পৃথিবীর কতটা কাছে, সেটা দেখতে হলে যেতে হবে বেশ খানিকটা দূরে। ২০০৪ সালে নাসার রোবটিক মহাকাশযান ‘মেসেঞ্জার’কে বুধ গ্রহে পাঠানো হয়েছিল। ২০১০ সালের ৬ মে, বুধ গ্রহের কক্ষপথের কাছাকাছি অবস্থান থেকে মেসেঞ্জারের ক্যামেরায় পৃথিবী ও চাঁদ-এর একটি যুগল ছবি তোলা হয়েছিল। তখন মেসেঞ্জারের সাথে পৃথিবীর দূরত্ব ছিল ১৮৩ মিলিয়ন কিলোমিটার। এই দূরত্ব থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, পৃথিবী থেকে চাঁদ কতটা কাছে।

অথচ এইটুকু দূরত্ব পাড়ি দেওয়াটাই মানুষের জন্য অনেক কঠিন। পৃথিবীর মাত্র পাঁচটি দেশ (যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, জাপান এবং ভারত) এ পর্যন্ত চাঁদের মাটিতে সফলভাবে অবতরণ করতে পেরেছে।

চাঁদের আবর্তন এবং ‘ফার সাইড অফ মুন’

পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করতে চাঁদের সময় লাগে ২৭.৩ দিন। মজার ব্যাপার হলো, নিজের অক্ষের উপর একবার ঘুরে আসতেও চাঁদের ২৭.৩ দিন সময় লাগে। একে বিজ্ঞানীরা বলেন “টাইডালি লকড” অবস্থা। অর্থাৎ, চাঁদের একটি পিঠই সব সময় পৃথিবীর দিকে ফিরে থাকে।

চাঁদের অপর পিঠকে সাধারণ ভাষায় বলা হয়, “ডার্ক সাইড অফ দ্য মুন”। কিন্তু এটি টেকনিক্যালি ঠিক নয় কারণ সেখানেও সূর্যের আলো পড়ে। তাই পৃথিবী ও চাঁদ-এর জ্যামিতিক অবস্থানের কারণে আমরা যেটা দেখি না, তাকে “ফার সাইড অব মুন” বলাটাই যুক্তিযুক্ত।

পৃথিবী ও চাঁদ-এর পারস্পরিক প্রভাব

চাঁদ সৌরজগতের পঞ্চম বৃহত্তম উপগ্রহ। সৌরজগতে পৃথিবীর মতো মাঝারি সাইজের গ্রহের এত বড় উপগ্রহ আর একটিও নেই। চাঁদের আকর্ষণের জন্যই পৃথিবীতে জোয়ার ভাটা হয়।

আসলে সৌরজগতে পৃথিবী ও চাঁদ খুব গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। চাঁদ যদি না থাকতো:

  • সমুদ্রে জোয়ার ভাটার পরিমাণ দুই তৃতীয়াংশ কমে যেত।

  • উপকূলবর্তী সামুদ্রিক জীবের উপর এবং খাদ্য শৃংখলে বিরূপ প্রভাব পড়তো।

  • সমুদ্র স্রোতের গতি পরিবর্তিত হয়ে পৃথিবীর আবহাওয়া চরম ভাবাপন্ন হয়ে উঠতো।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চাঁদের মহাকর্ষ পৃথিবীকে তার কক্ষপথে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় রেখেছে। পৃথিবী তার কক্ষপথে ২৩.৫ ডিগ্রী হেলে থাকার পেছনেও চাঁদের ভূমিকা রয়েছে, যার ফলে আমরা ঋতু পরিবর্তন দেখতে পাই।

চাঁদ কি দূরে সরে যাচ্ছে?

দুঃখের বিষয় হলো, চাঁদ পৃথিবী থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে। নাসার বিজ্ঞানীরা হিসেব করে দেখেছেন, এই সরে যাওয়ার পরিমাণ হলো বছরে ৩.৮ সেন্টিমিটার। যদিও এটি বিশাল কোনো দূরত্ব নয়, আমাদের হাতের নখও এই গতিতে বাড়ে। সুতরাং চাঁদ মামা খুব শীঘ্রই আমাদের ছেড়ে চলে যাবে তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। পৃথিবী ও চাঁদ একে অপরের দোসর হয়ে থাকবে আগামী আরো কয়েক বিলিয়ন বছর।

Tanvir Hossainhttps://bichitrobiggan.com
তানভীর হোসেন ছাত্র জীবন থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখি করছেন। সহজ সরল বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করা তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে বিজ্ঞানে জন সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং তরুণ সমাজকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা তার লেখার মূল উদ্দেশ্য। তানভীর হোসেনের লেখা দুটো বিজ্ঞান বিষয়ক বই, "শতাব্দীর বিজ্ঞান" এবং "বিচিত্র বিজ্ঞান" পাঠক সমাদৃত হয়েছে।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular