Thursday, January 15, 2026

জীবনের বিজ্ঞান, মহাবিশ্বের মহাবিস্ময়, মহাকাশ অভিযানের কাহিনী, পদার্থের স্বরূপ, কালজয়ী বিজ্ঞানীদের গল্প - এসব নানা চমকপ্রদ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আমার লেখাগুলোকে নিয়ে তৈরি করেছি , 'বিচিত্র বিজ্ঞান' নামের এই ওয়েব সাইট। বিজ্ঞানের প্রতি মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি করা এবং বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করার ইচ্ছে নিয়েই সহজ-সরল বাংলা ভাষায় লেখাগুলো এই সাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।  আশা করছি, দিনে দিনে আরো নিত্যনতুন লেখা যোগ করা হবে।

Homeমহাকাশ বিজ্ঞানসুপারমুন ও উল্কাবৃষ্টি: ৩ জানুয়ারি ২০২৬ এর বিরল মহাজাগতিক ঘটনা

সুপারমুন ও উল্কাবৃষ্টি: ৩ জানুয়ারি ২০২৬ এর বিরল মহাজাগতিক ঘটনা

মহাকাশের বিরল মিলনমেলা

আজ ৩ জানুয়ারি ২০২৬। ক্যালেন্ডারের পাতায় এটি কেবল আরেকটি শনিবার মনে হতে পারে। কিন্তু আমাদের দৈনন্দিন জীবনের আড়ালে, ঠিক মাথার ওপরেই সৌরজগৎ এক বিরল ও দৃষ্টিনন্দন মিলনমেলায় ব্যস্ত।

আজ এক দিনের মধ্যেই ঘটছে তিনটি আলাদা জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা, যা একসঙ্গে খুব কমই দেখা যায়। আসুন জেনে নেই আজ আকাশের বুকে কী কী ঘটতে যাচ্ছে।

১. পেরিজি ও উলফ মুন (সুপারমুন)

আজ চাঁদ তার কক্ষপথে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে চলে আসবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় চাঁদের এই অবস্থানকে বলে, পেরিজি (Perigee)। আর ঠিক সেই সময়েই আজ রাতে হবে পূর্ণিমা।

জানুয়ারি মাসের এই পূর্ণিমাকে বলা হয় “উলফ মুন” (Wolf Moon)। পূর্ণিমার রাতে চাঁদের এই পেরিজি অবস্থানের জন্য আমরা পাচ্ছি এক বিশাল সুপারমুন। এর বিশেষত্ব হলো:

  • চাঁদকে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বড় দেখাবে।
  • এটি প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি উজ্জ্বল হবে।

আজ রাতে চাঁদের আলো এতটাই তীব্র হবে যে রাতের ছায়াগুলোও স্বাভাবিকের চেয়ে স্পষ্ট আর ধারালো দেখাবে। শহরের আলো পেরিয়েও চাঁদের রাজত্ব ঠিকই টের পাওয়া যাবে। কবির ভাষায় বলতে হয়, আজ রাতে চাঁদের হাসির বাঁধ ভেঙে যাবে।

২. পেরিহেলিয়ন: সূর্যের সবচেয়ে কাছে পৃথিবী

এর সঙ্গে আজ ঘটছে আরেকটি মহাজাগতিক ঘটনা। পৃথিবীর কক্ষপথে আজ আমরা পৌঁছাচ্ছি সূর্যের সবচেয়ে কাছের বিন্দুতে—এর নাম পেরিহেলিয়ন (Perihelion)।

মজার ব্যাপার হলো, উত্তর গোলার্ধে যখন শীতের তীব্রতা বেড়েছে, ঠিক তখনই পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছের অবস্থানে পৌঁছাচ্ছে। জুলাই মাসের তুলনায় পৃথিবী আজ সূর্যের প্রায় ৩০ লক্ষ মাইল বেশি কাছে অবস্থান করছে!

এই সময়ে সূর্যের মহাকর্ষের টানে পৃথিবী তার কক্ষপথে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে ছুটে চলে, ঘণ্টায় প্রায় ৬৭ হাজার মাইল বেগে। তাই মনে রাখবেন, আজ আপনার বার্ষিক গতি বছরের অন্যান্য দিনের তুলনায় সবচেয়ে বেশি!

৩. কোয়াড্রান্টিড উল্কাবৃষ্টি ও অগ্নি-গোলক

মহাকাশের এই মহোৎসব পূর্ণ করতে, ঠিক আজ রাতেই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে কোয়াড্রান্টিড উল্কাবৃষ্টি (Quadrantid Meteor Shower)। পৃথিবীর কক্ষপথে আমরা আজ একটি গ্রহাণুর রেখে যাওয়া ধ্বংসাবশেষের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করছি। এর ফলে আকাশে উল্কার ঝলকানি দেখা যাবে।

এই উল্কাবৃষ্টি মূলত উত্তর আকাশের দিকে দেখা যায়, বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব দিকে। মধ্যরাতের পর থেকে ভোরের আগে আকাশ সবচেয়ে পরিষ্কার থাকে, আর এ সময়ই সবচেয়ে বেশি উল্কাপাত দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে উজ্জ্বল সুপারমুনের আলোয় অনেক ক্ষুদ্র উল্কা চোখে পড়বে না ঠিকই, কিন্তু কোয়াড্রান্টিডদের বিশেষত্ব হলো এই উল্কাগুলো সাধারণ উল্কার চেয়ে অনেক বেশি উজ্জ্বল। এদের বলা হয় অগ্নি-গোলক বা ফায়ারবল। চাঁদের তীব্র আলো ভেদ করেও এরা আকাশে দীপ্তিমান দাগ কেটে যায়। আজ মধ্যরাতের পর উত্তর আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলে, আপনার চোখে পড়বে বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন অগ্নি-গোলক।

উপসংহার

২৪ ঘণ্টার মধ্যে এমন তিনটি আলাদা মহাজাগতিক ঘটনা—সুপারমুন, পেরিহেলিয়ন এবং উল্কাবৃষ্টি—একসঙ্গে ঘটা সত্যিই বিরল। তাই আজ রাতের আকাশ যদি পরিষ্কার থাকে, তবে একটু সময় নিয়ে মহাকাশের দিকে তাকাতে ভুলবেন না। সৌরজগতের এই চলমান মিলনমেলার সাক্ষী হয়ে থাকুন।

Tanvir Hossainhttps://bichitrobiggan.com
তানভীর হোসেন ছাত্র জীবন থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখি করছেন। সহজ সরল বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করা তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে বিজ্ঞানে জন সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং তরুণ সমাজকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা তার লেখার মূল উদ্দেশ্য। তানভীর হোসেনের লেখা দুটো বিজ্ঞান বিষয়ক বই, "শতাব্দীর বিজ্ঞান" এবং "বিচিত্র বিজ্ঞান" পাঠক সমাদৃত হয়েছে।
RELATED ARTICLES

Most Popular