Thursday, January 15, 2026

জীবনের বিজ্ঞান, মহাবিশ্বের মহাবিস্ময়, মহাকাশ অভিযানের কাহিনী, পদার্থের স্বরূপ, কালজয়ী বিজ্ঞানীদের গল্প - এসব নানা চমকপ্রদ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আমার লেখাগুলোকে নিয়ে তৈরি করেছি , 'বিচিত্র বিজ্ঞান' নামের এই ওয়েব সাইট। বিজ্ঞানের প্রতি মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি করা এবং বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করার ইচ্ছে নিয়েই সহজ-সরল বাংলা ভাষায় লেখাগুলো এই সাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।  আশা করছি, দিনে দিনে আরো নিত্যনতুন লেখা যোগ করা হবে।

Homeপ্রকৃতি ও পরিবেশহাইলি গুব্বি আগ্নেয়গিরি: ১২ হাজার বছর পর অগ্ন্যুৎপাত ও ঝুঁকি

হাইলি গুব্বি আগ্নেয়গিরি: ১২ হাজার বছর পর অগ্ন্যুৎপাত ও ঝুঁকি

১২ হাজার বছরের নীরবতা ভঙ্গ

বারো হাজার বছর পর ইথিওপিয়ার হাইলি গুব্বি আগ্নেয়গিরি অগ্ন্যুৎপাত কেবল একটি প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, বরং ভূতত্ত্ব, পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকি—এই তিন দিক থেকেই এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুদীর্ঘ কাল শান্ত থাকার পর হঠাৎ এর জেগে ওঠা বিজ্ঞানীদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।

পৃথিবীর জীবন্ত শক্তি

প্রথমত, এটি প্রমাণ করে দিল যে পৃথিবীর ভেতরের শক্তি কখনও স্থির হয়ে থাকে না। কোনো আগ্নেয়গিরি হাজার বছর নীরব থাকলেই যে সেটি “মরে গেছে” বা চিরতরে শান্ত হয়ে গেছে, সেটা ভাবা সঠিক নয়।

ভূগর্ভে ম্যাগমা, গ্যাস এবং চাপ ধীরে ধীরে জমতে থাকে, যেটা একসময় বিস্ফোরণে রূপ নেয়। তাই দীর্ঘনিদ্রিত আগ্নেয়গিরির এই হঠাৎ জেগে ওঠা পৃথিবীর অন্তর্গত গতিশীলতারই এক জলজ্যান্ত প্রমাণ।

টেকটোনিক প্লেট ও আফার অঞ্চলের ভাঙন

দ্বিতীয়ত, এটি টেকটোনিক প্লেটের চলাচলে নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। ইথিওপিয়ার আফার অঞ্চল এমনিতেই পৃথিবীর সবচেয়ে সক্রিয় রিফট ব্যবস্থার অংশ, যেখানে স্থলভাগ দুদিকে ছিঁড়ে যাচ্ছে।

দীর্ঘ নীরবতার পর হঠাৎ অগ্ন্যুৎপাত মানে ভূগর্ভে নতুন চাপ বা নতুন ম্যাগমার উত্থান শুরু হয়েছে। এর মানে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে আরও ভাঙন, ভূকম্পন বা নতুন আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তার সম্ভাবনা বাড়ছে।

ভবিষ্যৎ ঝুঁকি ও সতর্কতা

তৃতীয়ত, এটি ভবিষ্যৎ ঝুঁকির কড়া সতর্কতা দেয়। এই ধরনের আগ্নেয়গিরি সাধারণত একবার ফেটে থেমে যায় না। এর প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রসারী:

  • কিছুদিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে ছাই বা ছোট ছোট বিস্ফোরণ চলতে পারে।
  • ছাই ও ধোঁয়ার কারণে কৃষি ও পশুপালনে ক্ষতি হতে পারে।
  • জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি তৈরি হতে পারে।
  • আকাশপথে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

বৈজ্ঞানিক গবেষণার নতুন দ্বার

তাছাড়া এটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য এক বিরল সুযোগ তৈরি করেছে। হাজার বছর নিস্তব্ধ থাকা একটি আগ্নেয়গিরির আচমকা উত্থান বিজ্ঞানীদের নতুন করে জানার সুযোগ দেয়:

  • এত বিপুল ম্যাগমা কোথা থেকে এল?
  • কেন এতদিন এটি নিষ্ক্রিয় ছিল?
  • ঠিক কোন ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া এটিকে আবার সক্রিয় করল?

এই উত্তরগুলো ভবিষ্যতের প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে সাহায্য করবে।

উপসংহার

সবশেষে, হাইলি গুব্বি আগ্নেয়গিরি মানবজাতিকে আবারও মনে করিয়ে দেয়, ভূপ্রকৃতি যতই শান্ত মনে হোক, তার গভীরে লুকিয়ে রয়েছে ভয়ংকর শক্তি। আর সেই শক্তি যে কোনো মুহূর্তেই প্রকাশ পেতে পারে। বারো হাজার বছরের নীরবতা ভেঙে হঠাৎ আগুনের এই জাগরণ পৃথিবীর জীবন্ত এবং অবিরাম পরিবর্তনশীল চরিত্রেরই এক স্পষ্ট বার্তা।

Tanvir Hossainhttps://bichitrobiggan.com
তানভীর হোসেন ছাত্র জীবন থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখি করছেন। সহজ সরল বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করা তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে বিজ্ঞানে জন সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং তরুণ সমাজকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা তার লেখার মূল উদ্দেশ্য। তানভীর হোসেনের লেখা দুটো বিজ্ঞান বিষয়ক বই, "শতাব্দীর বিজ্ঞান" এবং "বিচিত্র বিজ্ঞান" পাঠক সমাদৃত হয়েছে।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular