Thursday, January 15, 2026

জীবনের বিজ্ঞান, মহাবিশ্বের মহাবিস্ময়, মহাকাশ অভিযানের কাহিনী, পদার্থের স্বরূপ, কালজয়ী বিজ্ঞানীদের গল্প - এসব নানা চমকপ্রদ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আমার লেখাগুলোকে নিয়ে তৈরি করেছি , 'বিচিত্র বিজ্ঞান' নামের এই ওয়েব সাইট। বিজ্ঞানের প্রতি মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি করা এবং বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করার ইচ্ছে নিয়েই সহজ-সরল বাংলা ভাষায় লেখাগুলো এই সাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।  আশা করছি, দিনে দিনে আরো নিত্যনতুন লেখা যোগ করা হবে।

Homeপ্রকৃতি ও পরিবেশওলেমাই পাইন: জুরাসিক যুগের জীবন্ত ফসিল ও ওলেমিয়া

ওলেমাই পাইন: জুরাসিক যুগের জীবন্ত ফসিল ও ওলেমিয়া

জুরাসিক যুগের হারানো স্মৃতি

দুইশো মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবী ছিল এক সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে। তখন জুরাসিক যুগ, ভূমিজুড়ে বিস্তৃত ছিল বিশাল বিশাল কনিফার বন। এই বনেই ঘুরে বেড়াতো ডাইনোসররা।

কিন্তু কালের বিবর্তনে ডাইনোসর যেমন হারিয়ে গেছে, তেমনি বিলুপ্ত হয়েছে সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগের অসংখ্য কনিফার প্রজাতিও। আমরা তাদের অস্তিত্বের প্রমাণ পাই শুধু জীবাশ্মে। বিজ্ঞানীরা অনেক আগেই ধরে নিয়েছিলেন, এসব প্রজাতি বহু আগে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়েছে; কখনোই আর দেখা যাবে না তাদের জীবন্ত রূপ।

১৯৯৪ সালের বিস্ময়কর আবিষ্কার

কিন্তু ১৯৯৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ইতিহাস যেন নতুন মোড় নিল। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের গভীর এবং দুর্গম ওলেমাই ন্যাশনাল পার্কের এক অজানা ক্যানিয়নে প্রবেশ করে কিছু প্রকৃতিপ্রেমী অভিযাত্রী দেখতে পেলেন এক অদ্ভুত গাছ, যা তারা আগে কখনও দেখেননি।

তাঁরা নমুনা সংগ্রহ করে পাঠালেন বিশেষজ্ঞদের কাছে। বিশ্লেষণ শেষে সবাই হতবাক; এটি কোনো নতুন প্রজাতি নয়, বরং জুরাসিক যুগের এক প্রাচীন কনিফার, যাকে দীর্ঘদিন ধরে বিলুপ্ত বলে মনে করা হয়েছিল। যেন দুইশ মিলিয়ন বছর আগের ইতিহাস হঠাৎ জেগে উঠেছে আজকের পৃথিবীতে।

গোপনীয়তা ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি

এই বিস্ময়কর আবিষ্কারের পর গাছটির অবস্থান গোপন রাখা হয়, যাতে কোনো অবৈধ সংগ্রাহক বা বাণিজ্যিক স্বার্থে কেউ ক্ষতি করতে না পারে। পরে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে, বিশেষ করে টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে এর চারা উৎপাদন শুরু হয়।

আজ অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বোটানিক্যাল গার্ডেনে এই গাছ যত্নে লালন চলছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও দেখতে পারে পৃথিবীর এই জীবন্ত ফসিলকে। এর মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় এই প্রজাতিটিকে রক্ষা করার এক অনন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্লু মাউন্টেন ও লেখকের অভিজ্ঞতা

আমরাও কৃষিবিদ ৮২ ব্যাচের রিইউনিয়নের দ্বিতীয় দিনে ব্লু মাউন্টেন বোটানিক্যাল গার্ডেনে গিয়ে দেখলাম সেই বিস্ময়ের গাছ—ওলেমাই পাইন। এর বৈজ্ঞানিক নাম Wollemia nobilis

যদিও নামের শেষে “পাইন” শব্দটি আছে, এটি প্রকৃত অর্থে পাইন গাছ নয়; বরং এক আদিম যুগের কনিফার, যার সঙ্গে বর্তমান কোনো প্রজাতির সরাসরি মিল নেই। এর পাতার গঠন, গুঁড়ির রঙ, আর শাখার বিন্যাসে এখনো টিকে আছে লক্ষ লক্ষ বছর আগের পৃথিবীর ছাপ। যেন সময়ের স্রোত পেরিয়ে এই গাছ আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রকৃতি কখনো পুরোপুরি ভুলে যায় না তার অতীতকে।

Tanvir Hossainhttps://bichitrobiggan.com
তানভীর হোসেন ছাত্র জীবন থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখি করছেন। সহজ সরল বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করা তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে বিজ্ঞানে জন সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং তরুণ সমাজকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা তার লেখার মূল উদ্দেশ্য। তানভীর হোসেনের লেখা দুটো বিজ্ঞান বিষয়ক বই, "শতাব্দীর বিজ্ঞান" এবং "বিচিত্র বিজ্ঞান" পাঠক সমাদৃত হয়েছে।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular